Breaking News :

মিথেন গ্যাসের “রহস্যময়” ধোঁয়া বাংলাদেশের আকাশে

বাংলাদেশের ওপর মিথেন গ্যাসের “রহস্যময়” ধোঁয়া। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে উচ্চমাত্রায় মিথেন গ্যাসের ধোঁয়া শনাক্ত করেছে । ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে থেকে দেখো যাচ্ছে স্যাটেলাইট ইমেজ ও ম্যাপে বাংলাদেশের আকাশে ‘রহস্যময়’ ধোয়ার অস্তিত্ব।

ব্লুমবার্গ এর মতে, টেকসই ও সবচেয়ে শক্তিশালী মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশের বায়ুমন্ডলে। যা ভবিষ্যতে ভয়বহ আকার ধারনের সম্ভাবনা আছে। তবে তারা এর উৎস পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করতে পারিনি’। এর উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টিকে “রহস্যময়” বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। স্বাদ-গন্ধহীন এই গ্যাস শনাক্ত করা বেশ কঠিন। বিজ্ঞানীরা এর উৎস শনাক্তে গবেষণা শুরু করেছে। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উৎস থেকে এ গ্যাস উৎপন্ন হয়ে থাকে।

এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের হিসাব অনুযায়ী, আজকের বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্তত এক চতুর্থাংশ মানুষের তৈরি মিথেন নির্গমনের কারণে ঘটে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ভাবে ধানক্ষেত ও ল্যান্ডফিল (ময়লা পুঁতে রাখার স্থান) কে চিহ্নিত করেছে। কেননা জলাবদ্ধ মাটিতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের নিম্ন উচ্চতা এবং উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব ছাড়াও দেশের চরম বৈরি আবহাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঘটনা দেশকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আস্তে আস্তে দেশের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, এসব সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবহিত। মিথেনের সবচেয়ে বড় অংশ আসছে ধানক্ষেত থেকে। কৃষকরা যখন তাদের জমিতে সেচ দিয়ে ভাসিয়ে দেন, তখন মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে গ্যাস নিঃসরণ করে।

কিরোস এসএএসের মতে, ধানক্ষেত, মাটিতে আটকে থাকা মিথেন গ্যাস, প্রাকৃতিক গ্যাসলাইনে লিক এবং কয়লাখনি থেকে বাংলাদেশের মিথেন নিঃসরণ হয় বেশি। কিরোস এসএএস এসব কথা বলতে গিয়ে ইএসএ’র সেন্টিনেল-৫পি এবং সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করেছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় স্পেস অ্যাজেন্সির ডাটা পর্যালোচনাকারী ব্লুফিল্ড টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন গত মে মাসে ফ্লোরিডার আকাশে বিশাল মিথেন গ্যাসের ধোঁয়া শনাক্ত করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের ওপরও মিথেনের অবস্থান শনাক্ত করে। বাংলাদেশ বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। ৪৮টি সদস্য দেশের এই সংগঠন জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে হুমকিতে থাকা ১২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে। স্বাদ-গন্ধহীন এই গ্যাস শনাক্ত করা বেশ কঠিন। ফ্রান্সভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফের প্রধান বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যামবার্গ বলেন, “বাংলাদেশের উপরে আমরা যে মিথেন ঘণীভূত হতে দেখেছি, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে- আমাদের আরও গবেষণা দরকার। নির্গমনের বিশ্বাসযোগ্য পরিমাণ এবং উৎস নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।”

বাংলা ক্যালেন্ডার