Breaking News :

সিরিয়ায় পঞ্চম খলিফার কবর খুঁড়ে দেহ মোবারক চুরি

অবশেষে ইসলামের পঞ্চম খলিফার কবর খুঁড়ে তারা তাঁর লাশটি বের করে ফেললো! ইসলামের পঞ্চম খলিফা হিসেবে খ্যাত অষ্টম উমাইয়া খলিফা হযরত উমর বিন আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর লাশ তাঁর কবর খুঁড়ে বের করে চরম অবমাননা করলো শিয়া রাফেজিরা!

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুসারী শিয়া মিলিশিয়ারা ইদলিবের উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত হযরত উমর বিন আব্দুলাজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কবর খুঁড়ে তাঁর লাশ বের করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে খলিফা উমর (র:) এবং তাঁর সহধর্মিণীর লাশ কবর খুঁড়ে বের করে ফেলা হয়েছে। ভিডিওতে লাশগুলো দেখা না গেলেও তাঁদের খননকৃত শূন্য কবরগুলো দেখা যাচ্ছে।

ইদলিবে উত্তরপশ্চিমের দাইর আল-সারকি গ্রামটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আসদের সমর্থক শিয়া মিলিশিয়ারা যে স্থানটিতে খলিফা উমর বিন আব্দুলাজিজ (র:) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করা হয়েছে সে পুরো স্থানটিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে!

রাসূলুল্লাহ (সা:) ও দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) এর বংশধর উমর বিন আব্দুলাজিজ (র:) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কাছে খোলাফায়ে রাশেদীনের অনুরূপ একজন ন্যায় পরায়ণ ও অতীব ধার্মিক শাসক হিসেবে পরিচিত। তাই তো মুসলমানরা তাঁকে শ্রদ্ধা করে ও ভালবেসে “ইসলামের পঞ্চম খলিফা” এর সম্মানে ভূষিত করে।

উমাইয়া খলিফা হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা:) এর পর ইসলামের ইতিহাসে উমর বিন আব্দুলাজিজ (র:)-ই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুন্নি মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র। অষ্টম শতাব্দীতে মাত্র দুই বছর পাঁচ মাস শাসন করেই তিনি দুনিয়ার সকল মুসলমানদের মন জয় করে নেন। উমাইয়া খলীফাগণ ইসলামের শত্রু এই রাফেজি শিয়াদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, অথচ খলিফা উমর বিন আব্দুলাজিজ (র:) তাদের প্রতি কঠোরতার নীতির অনুসরণ করেননি। তিনি তাদের প্রতি যথেষ্ট সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেন এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তাদের চাকুরী দিয়ে সেখানে নিয়োগ করেন। আর আজ অকৃতজ্ঞ শিয়ারা তাঁর উদারতার এই প্রতিদান তাঁকে দিলো। তবে এ ঘটনাই প্রথম কোনো ঘটনা নয়। আলাভি শিয়া বাশার আল আসদের বাহিনী সিরিয়ার যে জায়গায়ই নিজেদের দখলে নিয়েছে সেখানেই এমন ঘৃণ্য কাজ চালিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রায় সময় প্রকাশ হওয়া খবর ও ভিডিওতে দেখা যায় এই রাফেজি শিয়া বাহিনী যখন সুন্নিদের এলাকা দখল করে তখন সুন্নি যুদ্ধা ও ধর্মীয় সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের লাশগুলোকে তারা কবর খুঁড়ে বের করে তাঁদের অবমাননা করে। এমনকি অনেক ভিডিওতে দেখা যায় সুন্নিদের মাথার খুলি/কঙ্কাল দিয়েও ফুটবল খেলে তাদের আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করছে।

হাদীছ শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা:) এই শাম তথা সিরিয়াকে বরকতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখানেই রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলগণের কবর, এটাই ছিল উমাইয়া খেলাফতের সময় ইসলামের সাম্রাজ্যের রাজধানী ও ইলমে দ্বীনের অন্যতম মারকাজ। এ স্থানকেই আল্লাহ্‌ পাক হাজার হাজার ইসলামী জ্ঞানতাপসদের জন্মভূমি করে আর্শীবাদপুষ্ট করেছেন।

সিরিয়ার এই বরকতপূর্ণ মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি; আরো জন্ম নিয়েছেন তাঁরই প্রিয়বৃন্দ ছাত্র ইমাম হাফেজ ইবনুল কায়্যিম (র:), ইমাম শামসুদ্দীন জাহাবি (র:), ইমাম ইবনে কাসীর (র:) এর মত ইসলামের আকাশের দীপ্তিমান নক্ষত্রপুঞ্জ; যাঁদের কাছে মুসলিম উম্মা রয়েছে চিরঋণী। কিন্তু হায়! আজ এই সিরিয়া ইসলামের দুশমন রাফেজি শিয়াদের দখলে! তারা দিন রাত সেখানে মুসলমানদের রক্তের হোলি খেলছে; মুসলমান মহিলাদের উপর চালাচ্ছে অবর্ণনীয় দৈহিক নির্যানত! সিরিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ৭৫ ভাগেরও বেশি রয়েছে সুন্নি মুসলমান; শিয়া কাফেররা মাত্র ১৩%, কিন্তু রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা এই রাফেজি শিয়াদের হাতে। প্রায় নয় বছর ধরে চলা যুদ্ধে সিরিয়ার আসাদ সরকার ও তাঁর প্রধান দোসর শিয়া রাষ্ট্র ইরান সেখানে লক্ষ লক্ষ সুন্নি মুসলমানদের হত্যা করেছে এবং মুসলমানদের তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করেছে! যুদ্ধের কারণে উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রিত লক্ষ লক্ষ সিরিয়ান সুন্নি মুসলমানদের ইরান সমর্থিত আসাদ সরকার এখন দেশে ফিরতে দিচ্ছে না। ইরান সিরিয়ার সুন্নি মুসলমানদের একদম নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে সেখানে শিয়াদের অবৈধ সেটেলমেন্ট চালাচ্ছে; আরবদের ইসলামী কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তারা অনারব অমুসলিম পারস্য কালচার দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে যাচ্ছে! যেমনঃ ইরান এখন ইসলামে হারাম ও নিষিদ্ধ প্রথা- “মুতা বিবাহ” সিরিয়ায় চালু করেছে, যেটা কোনো মুসলমানদের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আল্লাহপাক ইসলামের শত্রুদের হাত থেকে সিরিয়াকে রক্ষা করুন।

সুত্রঃ লাইফ অব সৌদিআরব

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!