Breaking News :

রেমডেসিভির বাজারজাত করার অনুমোদন

করোনা ভাইরাসে পৃথিবীর অবস্থা পুরোপুরি বদলে গেছে। সাথে বদলে গেছে মানুষের জীবনব্যবস্থাও। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোন কার্যকরী ঔষধ আবিস্কার হয়নি। তবে এর ভিতরেই আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে রেমডেসিভির নামক একটি ঔষধ। এই ঔষধটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে রেমডেসিভির বাজারজাত করার অনুমোদন পেয়েছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।

আজ রবিবার ঔষধ প্রশাসন এসকেএফকে এই অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পর এসকেএফ ইতিমধ্যে ১৩টি হাসপাতালকে এই ওষুধ সরবরাহ করেছে। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’।

ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান মিডিয়া ও সাংবাদিকদের জানান, এসকেএফকে ওষুধটি বাজারজাতের অনুমতি দিয়েছি। তিনি জানান, রেমডেসিভির ঔষধটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করতে পারবে। তবে ঐ সকল হাসপাতালগুলো করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত হতে হবে।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঔষধটি মার্চ মাসেই রেমডেসিভির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দেয়।

আর অনুমোদনের পরপরই এসকেএফের ফরমুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। এতো দিন তারা ঔষধটি এবং কিভাবে উৎপাদন করে বাজারজাত করা যায় তার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছিল। প্রক্রিয়া শেষে এসকেএফে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং পরীক্ষায় আশানুরুপ সাফল্য আসায় ঔষধ প্রশাসন আজ এটি বাজারজাতের অনুমতি দেয়।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন বলেন, আমরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করি। আমার চাই চিকিৎসা যেন সহজলভ্য হয় এবং বাংলাদেশের মানুষকে করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা দিতে।

আর এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসকেএফ কাজ করছে। রেমডেসিভির জাতীয় ওষুধ রেমিভির তৈরির পেছনেও সেই একই লক্ষ্যে কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, ঔষধটি শুধু বাংলাদেশে নয় এটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রাথমিক পরীক্ষায় উৎসাহব্যঞ্জক ফল পাওয়ায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে।

অন্যদিকে এফডিএ (যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন), জাপান সরকার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

এসকেএফের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি ওষুধ হিসেবে রেমিভির উৎপাদন করা হয়েছে এসকেএফের ফারাজ আইয়াজ হোসেন ভবনের প্ল্যান্টে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ও সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। তাই ঔষধটির মান নিয়ে এই মুহুত্বে কোন প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা নেই এবং কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে রেমডেসিভির।

গিলিয়েডের নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ৫ অথবা ১০ দিনের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!