Breaking News :

করোনায় মহাসড়কে উপচে পরা গাড়ির ভীড়

বাংলাদেশে করোনা কারনে আনুষ্ঠানিক লকডাউন করা হয় ২৬শে মার্চ থেকে। এই লকডাউন ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০শে মে পর্যন্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমানো। কিন্তু সে উদ্দেশ্য কি পূরণ করতে পেরেছি আমরা?

সরকার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকার বাইরে বের হওয়া যাবে না এবং ঢাকার বাহির থেকে ঢোকাও যাবে না। পুলিশের তরফ থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাশের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও ঠেকানো যাচ্ছে না গ্রামমুখী মানুষের ভীড়।

কিন্তু কে শুনে কার কথা শিকড়ের টানে গ্রামে যাওয়া। কিন্তু এর পরের অবস্থাটা কি হবে সেটা কি তাদের ধারনা আছে।

অন্যদিকে সরকার যখন ঘোষণা প্রদান করলো ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে কোন বাঁধা নেই। তখন করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছে মানুষ।

এছাড়া ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি বাধা সরিয়ে নেওয়ায় যে যেভাবে পারছেন সেভাবে বাড়ি যাচ্ছেন। তার মধ্যে বেশিই দেখা যাচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

কিন্তু, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে পুলিশের চেকপোস্ট ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে। কিন্তু শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। কিন্তু তার এই ঘোষনা মূলত কোন কাজেই আসে নি। সে সময় জেলার ১৭টি উপজেলার ৩২টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। কিন্তু মানুষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ও অন্যান্য জেলায় প্রবেশ করতে থাকে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘরমুখো মানুষ কুমিল্লাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় যেতে মহাসড়কের দাউদকান্দিতে আসেন। কিন্তু পুলিশি বাধার কারণে তাদের অনেককে আবার ফিরে যেতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ কৌশলে পায়ে হেঁটে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘরে ফিরেছেন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে গত কয়েকদিন যাবত ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পণ্যবাহী গাড়ি এবং জরুরি সেবার আওতাবহির্ভূত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন এ জেলায় প্রবেশ করতে দেইনি।

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরছে মানুষ।

ঢাকা থেকে আসা বেশ কয়েকজন চালক ও যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে ঈদকে কেন্দ্র করে বহু প্রাইভেট কার ভাড়ায় যাত্রী বহন করছে। রেন্ট-এ কারের গাড়িগুলো গলাকাটা ভাড়ায় ‘প্রাইভেট’ কার সেজে যাত্রী বহন করছে।

শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর যাদের ব্যক্তিগত যানবাহন রয়েছে, শুধু তারাই যাতায়াত করতে পারছেন।

তবে, ঈদে গ্রামমুখি মানুষের এই ঢলের ফলে আগামী দিনগুলোতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরোও ব্যাপকহারে বাড়বে বলে হুশিয়ারী করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!