Breaking News :

আইসিসির কাছে ক্রিকেট কমিটির সুপারিশ

আইসিসি নতুন নিয়ম করে আইন করতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। তাদের নিয়মের মধ্যে সবার আগে প্রধান্য পাচ্ছে থুথু বলে লাগানো যাবে না। মূলত বলের সাইন (সুইং) আনার জন্য বলের মধ্যে থুথু মেখে কাপড়ের অংশে ঘষা হয়। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি সুপারিশ করেছে আইন করে বলে থুতু মাখানো নিষিদ্ধ করার জন্য। এই সুপারিশটি করেছেন অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটি।

তবে, তারা বলেছেন বলের চকচকে বা সাইন আনার জন্য থুথুর স্থানে শরীরের ঘাম লাগিয়ে তা করা যাবে।

ক্রিকেট কমিটি তাদের বৈঠকে সুপারিশ করেন আরোও অন্যান্য বিষয়ে এর মধ্যে (অনিরেপক্ষ) ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগ এবং বাড়তি ডিআরএস যোগ করা। সুপারিশ করা হয়েছে ‘নিরপেক্ষ’ আম্পায়ারের বাধ্যবাধকতাও।

আগামী জুন মাসে এই সুপারিশগুলো পাশ হতে পারে আইসিসি প্রধান নির্বাহীদের সভায়।

ডাক্তার পিটার হারকোর্ট আইসিসির মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রধান তিনি। তার পরমর্শক্রমেই এই সুপারিশগুলো করা হয়েছে। জানালেন অনিল কুম্বলে।

ক্রিকেট কমিটি জানান, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তা সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হচ্ছে এবং থুতু বা লালা মাখানো নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও নেওয়া হচ্ছে সর্বসম্মতভাবেই। অনিল কুম্বলে বলেন, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস ঘামের সাথে ছড়ায় এটির কোন প্রমাণ বিশ্বের কেউ পায়নি এবং আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে ঘামের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না। তাই বলে ঘাম মাখাতে আপত্তি করেনি কমিটি।

তবে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট মাঠগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে কমিটি। করোনাভাইরাস এসে বন্ধ করে দিয়েছে সব ধরনের খেলাধুলা। তবে এরইমধ্যে ক্লাব ফুটবল খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে।

আইসিসি এই মুহুত্বে মনে করছে যেহেতুু ফুটবল খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে এবং জুন থেকে লা লীগার ম্যাচ গুলো হবে এবং সীমিত আকারে স্পেনে অনুশীলন করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ক্রিকেট খেলা শুরু করতে কোন সন্দেহ নেই।

তবে আইসিসিকে ভাবাচ্ছে অন্য বিষয় নিয়ে। ক্রিকেট খেলাটি যেহেতু বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন দেশ এতে অংশগ্রহন করে থাকে। সেক্ষেত্রে বাঁধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে বিভিন্ন দেশের কোয়ারেন্টিন আইন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। আইসিসি চাইলেই কিন্তু খেলা শুরু করতে পারছে না। এর উপর যদি খেলা হয়ই তখন নিরেপক্ষ আম্পায়র পাওয়াটাই কষ্টকর হয়ে যাবে।

অন্যদিকে কুম্বলে তার সুপারিশে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য হলেও এই নিয়ম শিথিল করার, বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ, আছে ফ্লাইট স্বল্পতা, তারওপর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন। এ সব বিবেচনায় নিয়ে কমিটি স্বল্প সময়ের জন্য স্থানীয় অফিশিয়াল নিয়োগের প্রস্তাব করেছে। আইসিসির নিয়মানুযায়ী টেস্টে দুই প্রান্তেই এবং ওয়ানডেতে এক প্রান্তে আইসিসি নিয়োগকৃত নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকেন।

কুম্বলে তার সুপারিশে উল্লেখ করেন, আইসিসির উচিৎ করোনার জন্য নিয়মগুলো শিথিল করা। আর কারা আম্পায়ারিং করবেন এটি আইসিসির নিজস্ব ব্যাপার। তাই কাকে ঠিক করবেন এটি আইসিসিই করে দিবেন।

আর যেহেতু আইসিসির এলিট ও ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল আছে এবং ঐখানে স্থানীয় আম্পায়াররা ও ম্যাচ রেফারি আছে। তাই আইসিসি তাদেরকেই প্রাধান্য দিবে। এলিট প্যানেলের আম্পায়ার না পাওয়া গেলে তবেই নিয়োগ দেওয়া হবে স্থানীয় আন্তর্জাতিক প্যানেলের আম্পায়ারদের।

কুম্বলের নেতৃত্বে ক্রিকেট কমিটি বলেছেন, করোনায় যেহেতু অনেক কিছুই বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এই সময়ে প্রত্যেকটি ম্যাচে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাবহার করা উচিৎ। সুপারিশে বলা হয় ইনিংসগুলোতে প্রতিটি দলকে বাড়তি ডিআরএস রিভিউ নিতে পারে।

কুম্বলে জানান, যেহেতু পুরো বিশ্ব আজ করোনার ভয়াল থাবায় জর্জরিত। সেহেতু সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রেখে ক্রিকেটকে নিরাপদে মাঠে ফিরিয়ে আনতে, খেলাটির মৌলিকত্ব ধরে রাখতে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদে রাখতেই কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন এসব সুপারিশ করেছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!