Breaking News :

অভিবাসী বাংলাদেশীদের আর্থিক সংকট চরমে

প্রবাস জীবনঃ বাংলাদেশী কিন্তু বর্তমানে অভিবাসী। এই চরম দুর্দিনে তাদের পাশে আজ কেউ নেই। তারা আজ ভিন দেশে বড়ই অসহায়। তারা আর্থিক ভাবে আজ চরম সংকটে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী অভিবাসীদের এই রকম নানান সংকটে তারা আতঙ্কিত অবস্থায় আছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমন হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন করে দেয় তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানগুলো। স্পেনও তার ব্যতিক্রম ঘটায়নি ১৩ মার্চ থেকে তাদের দেশে লকডাউন চলছে। ফলে অসুবিধায় পরে যায় অন্য দেশের নাগরিক যারা স্পেনে বসবাস করেন তারা। এ অবস্থায় অভিবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পরে যান।

তাদের দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার সহায়তার ঘোষনা দেয়। তারই অংশ হিসেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দফায় প্রাপ্ত ২৫ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এমনকি বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁদের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে ১ হাজার ইউরোসহ মোট ২৮ হাজার ইউরোর আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রেখেছেন।

দূতাবাস থেকে জানা যায়, তারা ৯৩৩ জন ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় অভিবাসীর নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং পরে তাদেরকে নগদ অর্থসহায়তা করেন। ২ মে থেকে এই অনুদান প্রদান শুরু হয় এবং ১১ মে পর্যন্ত দূতাবাসের পক্ষ থেকে অভিবাসী বাংলাদেশিকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অভিবাসী আছেন ৪০০ জন এবং বার্সেলোনায় আছেন ৪৫৩ জন তাদেরকে অনারারি কনস্যুলেটের রামোন পেদ্রোর মাধ্যমে অর্থসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সেভিয়া, মায়োর্কা, টেনেরিফ, মালাগা অঞ্চলে আছেন ৮০ জন অভিবাসী। তাদেরকেও অর্থসহায়তা প্রদান করা হবে।

স্পেনে কারফিউ বলবৎ আছে। ফলে চলাচলের উপর সকল জনসাধারনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রবাসী মহিলা ও বয়স্করা দূতাবাসে আসতে পারেননি, তাঁদের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করা হচ্ছে দূতাবাসের উদ্যোগে, ফলে এই অর্থসহায়তা নিয়ে তারা সহজেই কাছের কোন দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন।

দূতাবাস থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল এবং বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল- কারফিউ চলাকালীন এবং বিপদকালীন সময়ে কোন বাংলাদেশী প্রবাসী যদি খাদ্য সংকটে পরেন, অফিস বা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন না পান তাহলে তারা যেন দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে এবং যোগাযোগ এর জন্য দূতবাসের ই–মেইলে ফেসবুক পেজ ও হটলাইন অথবা হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।

ঐ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৯৩৩ জন আবেদনকারীর তালিকা তৈরি করা হয় এবং ঐ তালিকা থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি লকডাউনের ফলে এদের অধিকাংশই আয়-রোজগার বঞ্চিত হয়ে সপরিবারে দুর্বিষহ দিন যাপন করছে।

অন্যদিকে, প্রায় ২ হাজার অসহায় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে চাল, ডাল, তেলসহ অতি প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ সহযোগীতাগুলো করছেন বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠনগুলো এবং তাদেরকে স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা সহযোগীতা করছেন।

আমার সকলেই জানি করোনা ভাইরাসের তান্ডব এবং বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে স্পেন হলো ২য় দেশ। এ পর্যন্ত স্পেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আড়াই লাখের ওপর মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ হাজারের ওপর। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০+।

বাংলাদেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বর্তমানে স্পেনে রয়েছেন। উনাদের মধ্যে বেশিরভাগ বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য কোম্পানীতে কাজ করেন। দুঃখের বিষয় হলো তিনশত বাংলাদেশী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনজন মারা গেছেন।

শুধু যে স্পেনে বাংলাদেশী আছেন তা নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীরা বসবাস করেন। তারাও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারের প্রতি আকুল আবেদন দয়া করে তাদেরকেও সহায়তা করার পদক্ষেপ নিন।

যদি কোন প্রবাসী অসহায়েত্বর কথা আমাদের পেইজ এবং ওয়েবসাইটে লিখতে আগ্রহী থাকেন দয়া করে নিম্নের ঠিকানায় লেখা পাঠাতে পারেন – probasi@purebangla.com

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!