Breaking News :

কাবুলের হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলা বহু হতাহত

আমেরিকার ও তালেবানের চুক্তির পর এত বড় হামলা আফগানিস্তান সরকারকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নানগারহার এলাকায় এক পুলিশ কমান্ডারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ২৪ জন মারা গেছে। ঐ ঘটনায় আরো ৬৮ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার হওয়া এই দুই হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে ‘অশুভ’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

তবে কাবুলের হাসপাতালে হামলাটির পেছনে কারা ছিল তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তালেবানরা এই হামলার সাথে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে।

ওদিকে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে বালখ প্রদেশে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন মারা গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তালেবানদের দাবি মারা যাওয়ারা সবাই বেসামরিক নাগরিক। তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যারা মারা গেছে তারা সবাই তালেবান।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে সন্ত্রাসী হামলায় দুই শিশু ও ১২ জন নারী নিহত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর চালানো ঐ হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ আরো ১৫ জন আহত হয়েছে।

এসব হামলার প্রেক্ষিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি জানিয়েছেন যে তালেবান ও অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান আবারও শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতাল সুত্র থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় স্থানীয়রা হাসপাতালের মধ্যে পরপর দুটি বোমার বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনতে পায়। হামলা চলাকলীন সময় একজন চিকিৎসক পালিয়ে কোন রকমে বেঁচে যান। তিনি জানান, হাসপাতালে মোট ১৪০ জনের মতো মানুষ ছিল। ঠিক ঐ সময়ৈই হামলাটি চালানো হয়। তিনি কোন ভাবে পালিয়ে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

অপরদিকে রমজান আলী নামে একজন হামলা শুরু থেকেই হাসপাতালে ছিলেন। তিনি জানান, তিনি জানান কিছু বোঝে উঠার আগেই হামলাকারীরা বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে থাকে। ঐ সময় হাসপাতালের দিকে অনেক সাধারন মানুষ আসছিল তাদের দিকেও গুলি ছুঁড়া হচ্ছিল। এই হাসপাতালটি সরকারী হাসপাতাল তাই এখানে সাধারন মানুষ তাদের পরিবারের নারী ও শিশুদের চিকিৎসা করানোর জন্য নিয়ে আসে।

আফগান সেনাবাহিনী জানায়, স্পেশাল ফোর্স তিনজন বিদেশিসহ ১০০ জন নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছে। হামলাকারীরা ছদ্মবেশে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় হাসাপাতালে প্রবেশ করে।

প্রবেশ করার সাথে সাথেই সাধারন রোগীদের উপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে তারা। পরে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধ শেষে হামলাকারীদের সবাই মারা যায়।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায় সেনাবাহিনীর এক সদস্য রক্তাক্ত চাদরে মুড়িয়ে এক নবজাতককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলের যাবুল প্রদেশের একটি হাসপাতালের বাইরে বিস্ফোরক ভর্তি একটি ট্রাক বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন মারা যায়। ঐ হামলার দায় স্বীকার করেছিল তালেবান।

২০১৭ সালে মেডিকেল কর্মীর ছদ্মবেশে কাবুলের প্রধান সেনা হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও। ঐ ঘটনায় ৫০ জন মারা গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছিল কর্তৃপক্ষ।

গতকালের ঘটনার পর টেলিভিশনে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি মন্তব্য করেছেন: “মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তালেবান বা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীর এ ধরণের জঙ্গি হামলা ঠেকাতে আফগান নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিচ্ছি।”

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!