Breaking News :

করোনায় আরেক দুদক কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করলেন

করোনা যেন পিছু ছাড়ছে না বড় বড় সরকারী কর্মকর্তাদের। এর আগে দুদুক পরিচালকের (৪৫) মৃত্যূ হয়েছিল করোনা আক্রান্ত হয়ে। তিনি ২২তম বিসিএস ক্যাডার ছিলেন। এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরেক কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করলেন। (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। উনার নাম মো. খলিলুর রহমান (৫৭)। তিনি দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সেল-২ এর প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার দুপুর ১টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের বিষয়টি সামনে আসলে, অভিযোগ উঠে তিনি যথাযথ চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন । তিনি তার শোক বার্তায় বলেছেন, আমরা পরপর দুজন দক্ষ কর্মকর্তাকে হারালাম। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল সমবেনা।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুদকের পরিচালক (প্রশাসন) জালাল সাইফুর রহমান (৪৫) মারা যান। তার স্ত্রী সন্তানও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তারা এখন সুস্থ।

খলিলুর রহমানের অসুস্থতার বিষয়ে দুদকের একজন দায়িত্বশীল উপ-পরিচালক বলেন, খলিলুর রহমান গত ৯-১০ দিন আগে অসুস্থ্য হয়ে পরেন। তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি করোনা টেস্ট করার জন্য শিশু হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করান। রিপোর্ট আসার পর জানতে পারেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। তিনি চিকিৎসার জন্য অনেকগুলো হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোন হাসপাতাল থেকেই সহযোগীতা পাননি। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তিনি ইবনে সিনা হাসাপাতালে (কল্যানপুর শাখা) চিকিৎসার জন্য যান। কিন্তু ইবনে সিনায় তিনি সিট এবং আইসিও’র ব্যবস্থা পাননি। ইবনে সিনার আউটডোরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি ঢাকা মেডিকেলে ও তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি। তাকে আইসিও সাপোর্ট দেয়া সম্ভব হয়নি।

তার মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কমতি ছিল। তারা যদি আরেকটু আন্তরিক হতো হয়তো তিনি আইসিও সাপোর্ট পেতেন। জেনে রাখা ভালো গত তিনমাস আগে তার অপারেশ হয়েছিল। হার্টে রিং পরানো হয়েছে। এরপর তিনি সুস্থ্ ছিলেন। এমনকি সরকারী ছুটিতে তিনি বাসা থেকে পর্যন্ত বের হননি। পরিবারের কেউই ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না্। ঘরের ভিতরে থাকার পরও কিভাবে তিনি পজেটিভ হলেন এটি তাদেরকে ভাবিয়ে তোলেছে।

খলিলুর রহমানের একজন বোন পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির কাঠালিয়া। সেখানেই তার জানাযা শেষে তাকে কবর দেওয়া হয়েছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার