Breaking News :

করোনার প্রভাব পরতে শুরু করেছে আমের বাগানে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ২৬শে মার্চ থেকে শুরু করে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত দশদিন সব কিছু বন্ধ ঘোষনা করেছিল। এরপর ধাপে ধাপে সে বন্ধ এসে ঠেকেছে ১৬ই মে পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বাংলাদেশে কার্যত যে লকডাউন চলছে, এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আম-বাণিজ্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এবার শীত ছিল বেশি সময় এবং মার্চ মাসে বৃষ্টি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন কম হওয়ার আশংকা আছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকগন। এছাড়া লকডাউনের ফলে দেশের পরিবহণ সেক্টর এবং বড় বড় আড়ৎগুলো কর্মহীন ও ক্রেতা শূণ্য হওয়াতে সময় মতো সব আম বিক্রি করতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে তারা সংশয়ে আছেন।

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, এবারের আমের উৎপাদন ও বিপণন ঠিক রাখতে তারা আগের চেয়ে বেশি কাজ করে যাচ্ছেন।

নওগার আমের বাগান – ফাইল ফটো

মোহাম্মদ মন্টু মণ্ডল বলেন, লকডাউন তুলে না দিলে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাবে না বলে তিনি মনে করেন । তিনি রাজশাহীর পুথিয়া উপজেলার বানেশ্বর গ্রামের আম বাগানের মালিক। তিনি তার চার বিঘা জমি জুড়ে আম চাষ করছেন। তিনি আম বাগানের পরিচর্যা ও কীটনাশক এর জন্য প্রতিবছর ১ লক্ষ টাকার মতো খরচ করেন। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো আয় হয় আম বিক্রি করে। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট অন্য রকম। তিনি জানান, পরিচর্যার খরচ তুলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েই দ্বিধায় আছেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, আগে “আগাম” বাগান কিনতে আড়তগুলোয় ব্যাপারীদের যে ভিড় থাকতো, এবারে তার কিছুই নেই। স্থানীয় বাজারগুলোও জনশূন্য। এভাবে আম চাষিরা ন্যায্যমূল্যে আম বিক্রি করতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আমি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারছিনা। কারন, লকডাউনের কারণে এক এলাকার লোক আরেক এলাকায় যেতে গেলে তাকে আটকে দেয়া হচ্ছে। ফলে অন্য জেলায় যেতে না পারাতে আম বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি কোন জেলাতে যাওয়া যাচ্ছে সেখানে পরিবহণ খরচ পরে যাচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। ফলে লসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এবার বাংলাদেশে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার একর জমিতে ১২ লক্ষ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এবারের আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে এবং সব আম দেশের ভেতরেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশাবাদী কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জানান, লকডাউনের ফলে কৃষি পণ্য পরিবহনে কোন বাঁধা নেই। আর কেউ যদি বাঁধা দেয়। তাহলে সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।যেহেতু একখনও বাজারে ফল আসে নি তাই এই মুহুত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম। তবে, যখন বাজারে আম বা অন্যান্য ফল উঠা শুরু করবে তখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া এক জেলা থেকে আরেক জেলায় আমের সরবরাহ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য সামনের কয়েকদিনের মধ্যেই আমচাষি, আড়তদার থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করা হবে।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!