Breaking News :

পদত্যাগ গুঞ্জনের অবসান! ক্ষমা প্রার্থনা কিশোর কুমার দাসের

পদত্যাগ করেছেন এমন একটি পোস্ট করা হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবকদের সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল পেইজে। সেখানে পদত্যাগের কারন উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পোস্ট ২৪ ঘন্টা পার হয়নি এর মধ্যেই আরেকটি পোস্টে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস তার পদত্যাগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি তার পোস্টে ‍বলেন, বিদ্যানন্দের পক্ষে লিখতে গিয়ে অনুমানভিত্তিক অন্যকে দোষারোপ না করতে সবার প্রতি অনুরোধও করেন তিনি। তিনি আরো লিখেন, বিদ্যানন্দ থেকে তিনি পদত্যাগ করছেন না।

তিনি বলেন, কোন চাপে এই সিদ্ধান্ত নেই নি আমি। শারীরিক ক্লান্তি এবং ব্যক্তিগত আবেগের কাছে হার মেনে এই সিদ্ধান্ত নেয়া। সব ধর্মের বিশেষ করে মুসলমানদের সহযোগিতায় এতদূর আসা। কিছু মন্দ লোক অপপ্রচার করে সেটা খুবই নগন্য।

তিনি বলেন, আমার সিদ্ধান্তগুলোতে পাগলামি এবং আবেগের প্রভাব যুক্তির চেয়ে বেশি থাকে। ক্ষমা চাচ্ছি এই সীমাবদ্ধতার জন্য। আজকে আমার এক সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বিদ্যানন্দ ছাড়ছি না, পরিচালনা পর্ষদেই থাকছি। শুধু দায়িত্ব পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। পরিচালনা পর্ষদে এখনো সে আবেদন গ্রহণ করেনি। যদি আমার আগের বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাই।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা শাখার প্রধান সালমান খান ইয়াছিন (বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাসের পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করা হয়নি। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটি। তার পরেও ফেরানো না গেলে চেয়ারম্যান পদ তার জন্য ফাঁকা রাখা হবে।

তিনি বলেন, রাগ ও অভিমান করেই কিশোর কুমার চেয়ারম্যান পদ (স্বেচ্ছাসেবকদের সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন) থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সালমান খান ইয়াছিন কে প্রশ্ন করা হয় কোন চাপে পরে তিনি পদত্যাগ করেছেন কি না? তিনি বলেন, না এমন কোনো চাপ নেই। সংগঠনের মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে চাপ দিয়েছে এটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হচ্ছে। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ন ভিত্তিহীন একটি কথা। কিশোর কুমার এ বিষয়টিও ক্লিয়ার করতে লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই হয়তো ভাববেন উনাকে দিয়ে লেখানো হচ্ছে। ফলে তিনি এখন এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন না।’

সালমান খান ইয়াছিন কে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়, প্রভাবশালীদের কোন চাপ আছে কি না? তিনি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা কাজ করতে গিয়ে সরকারের অনেক সহায়তা পেয়েছি। পুলিশ, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব সহ আমরা সব সময় সব মহলের সহায়তা পাচ্ছি। কিশোর কুমারের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো মহল থেকে চাপ ছিল না বা কেউ চাপ প্রযোগ করে নি। যদি তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার নাও করেন, তাহলেও উনার পদ খালি থাকবে। এই পদে কেউ আসবে না। কারন, উনার বিকল্প এখন পর্যন্ত বিদ্যানন্দে নেই। উনি চাইলে যেকোনো সময় আবার এই পদে আসতে পারবেন। ওই পদে কেউ যাবে না। আর ওই পদের জন্য কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করেন না।

সালমান খান ইয়াছিনকে প্রশ্ন করা হয়, বিদ্যানন্দের ভেতরে কোনো দ্বন্দ্ব কিংবা পদ দখলের ষড়যন্ত্র চলছে, এটি কি সত্যি? তিনি বলেন, বিদ্যানন্দে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

বাংলা ক্যালেন্ডার