Breaking News :

অবশেষে বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিদ্যানন্দ একটি সমাজসেবামূলক সংস্থা। মূলত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়ক বিষয় নিয়েই কাজ করে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি শিশু শিক্ষাকেই প্রাধান্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম এতদিন চালিয়ে আসছিল। পরবর্তিতে ১টাকায় আহার নামক একটি কার্যক্রম চালু করে এবং এটিতেও তারা শতভাগ সফল। এই বছর দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে আলোচনায় আসে সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘বিদ্যানন্দ।’

বিদ্যা বা শিক্ষা দিয়ে শুরু হলেও বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সঙ্গে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা খুঁজেছেন এক শ্রেণীর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। গত কিছু দিন যাবৎ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ফেইসবুকে নানান মন্তব্য করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ সরে দাঁড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফেইবুক পোস্ট পাওয়া গিয়েছে তাদের অফিসিয়াল পেইজে।

এছাড়াও সংগঠনের এক টাকায় আহার নামের একটি প্রকল্পও বেশ পরিচিত।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ঘোষনাটি দেওয়া হয় বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে।

ঘোষণা পত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। ‘আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন’ স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। অনেকেই ব্যক্তির নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামের উদ্ভব ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা নামটাই পরিবর্তন করতে চেয়েছি, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা রাজী হয় না। বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যানন্দ প্রধান গত মাসেই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পরে।

ত্যাগের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। আর্থিক, সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকরা রচনা করে অনুপ্রেরণার গল্পগুলো। নিশ্চিত থাকেন, তাঁদের সে যাত্রা অব্যাহত থাকবে আগামীতেও। ক্ষমা চাচ্ছি এই হতাশার বার্তার জন্য। গত মাসের এই সিদ্ধান্তটি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পর। কিন্তু অনেকগুলো পেজ থেকেই প্রচুর ন্যাগেটিভ লেখা শেয়ার হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্যাম্পেইনটি। তাই শেয়ার করতে বাধ্য হয়েছি।

এদিকে কিশোর কুমার দাশ-এর পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যাপারটি ধর্মীয় ইস্যু হিসেবে অনেকেই দেখছেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন এভাবে তার পদত্যাগ করা উচিৎ হয় নি।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত বিদ্যানন্দ এর মতো কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে অসহায় দুঃস্থ মানুষের কাছেে এতো দ্রুত পৌছতে পারে নি এবং তাদের কর্মকান্ডে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট। সমাজের প্রান্তিক থেকে এলিট শ্রেণির মানুষ এই সংস্থার কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। কিশোর কুমার দাশ এর পদত্যাগের মাধ্যমে সচ্ছ একটি সামাজিক সংস্থার পতন ঘটবে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছেন।

বিদ্যানন্দ ফেইসবুক পেইজ থেকে নেওয়া ছবি

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাটির প্রধানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। একজন তার পেইজবুক পেইজে লিখেছেন- ভালো কাজ করা সত্যিই ভালো। কিন্তু সেটা যদি নিজের টাকায় হয়। অন্যের থেকে টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা দিয়ে ভালো কাজ করার মধ্যে ক্রেডিট শতভাগ থাকে না, কিছুটা কিন্তু থেকেই যায়। কিনতুটা হলো, ‘ভালো কাজ করার জন্য’ যার তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষ টাকাটা দিলো তার বিশ্বাসযোগ্যতা বা সততা কতটুকু ? রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আসলো, অনেককেই দেখেছি, দেশ-বিদেশ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ভালো কাজ করতে, মানে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিলি করতে। কিন্তু সেই সময় ভালো কাজের নামে অনেক ফকিন্নির পুতকে দেখেছি কক্সবাজারে গিয়ে ৫ তারকা হোটেলে থাকতে, মানুষের টাকা ইচ্ছামত উড়াতে। কালেকশন করা টাকা রোহিঙ্গাদের যদি ১০ টাকা দেয়, নিজেরা ৯০ টাকা ভাঙ্গতে। তাই সব ভালো কাজের কথা শুনে ১০ হাত লাফ না দিয়ে, তার পেছনে কারণ নিয়েও চিন্তা করা উচিত। আজকে দেখলাম বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নিয়ে কথা হচ্ছে। খুব ভালো কথা। আসলে প্রতিষ্ঠানটির তৈরীকারী কিশোর কুমার দাসকে আমার একটু চালাক গোছের লোক মনে হয়। তিনি স্বাভাবিক মানুষের থেকে ডোনেশন সংগ্রহ করবেন, সেটাতে কোন সমস্যা দেখি না। কিন্তু তিনি যখন মানুষের থেকে জাকাত, কোরবানীর পশুর অর্থ সংগ্রহ করবেন, তখন তো একটা কথা উঠবেই। যেহেতু বিষয়গুলো ধর্মীয় রিলেটেড, তাই জাকাতের টাকা বা কোরবানীর পশু কোন অমুসলিম মানুষের তত্ত্বাবধানে বিলি করার জন্য দেয়া যায় কি না, ধর্মের নিরিখে সেটা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। যেহেতু তার মধ্যে ধর্মীয় অনেক নিয়ম কানুন আছে। ধর্মীয় টাকা খরচ করা যেমন ধর্মীয় বিধান, তেমনি সেই টাকা খরচ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক সিলেক্ট করার নিয়মগুলোও ধর্মীয় বিধানে দেয়া আছে। কথা হচ্ছে- তিনি সংগঠনের মূল দায়িত্বে থেকে মুসলমানদের ধর্মীয় টাকা সংগ্রহ করবেন। তাই প্রশ্ন উঠছে। মুসলমানদের ধর্মীয় ফান্ড সংগ্রহ না করলে কখনই এই প্রশ্ন উঠতো না। এখানে সমস্যা হচ্ছে তার ধর্মীয় ফান্ড কালেকশনে। কিন্তু তিনি সেই টাকার দিকে নির্ভিগ্নে হাত বাড়ানোর পথ সুগম করতে দৃশ্যত্ব উপরের পদ থেকে সরে দাড়ালেন, কিন্তু যাওয়ার সময় দোষ মুষলমানদের গাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বললেন- “দেখেছো! মুসলমানরা কত সাম্প্রদায়িক, একটা ভালো কাজেও ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে”। আরে ভাই ! এখানে দোষটা তার ধর্মীয় ফান্ডের দিকে হাত বাড়ানোর, দোষটা মুসলমানদের না। যাই হোক, আসলে কিশোর কুমার দাস বিদেশী কর্পোরেট কোম্পানিতে মার্কেটিং এ চাকুরী করে আসা লোক তো, তাই তার কথার মধ্যে এসব কৌশল থাকবেই, সেটা সমস্যা না। আমার কাছে সমস্যা মনে হয়, তিনি মনে হয় বেশি কৌশলী হতে গিয়ে মাঝে মাঝে মিথ্যা কথা বলেন। যেমন- ২০২০ সালে তিনি দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে শিপ্রা দাসকে বোন হিসেবে অস্বীকার করেছেন (তার ভাষায়- শিপ্রা দাশ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়- http://archive.is/xI30j), অথচ ২০১৫ সালের প্রথম আলো পত্রিকায় তাদের দুইজনকে ভাই-বোন বলা হয়। https://bit.ly/2YBwfLK) আমি জানি না, কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি এর সাথে তার ডাইরেক্ট সম্পৃক্ততা হাইড করতে চাইছেন। কারো যদি মন সত্যিই ভালো থাকে, তবে ভালো কাজে তথ্য লুকানোর দরকার কি ? মানুষ তো তখনই কথা কাটছাট করে, যখন তার নিজের মধ্যে সমস্যা থাকে, তাই না ?

বিদ্যানন্দ ফেইসবুক পেইজ থেকে নেওয়া ছবি

অন্যআরেকজন তার পোস্টে লিখেছেন- প্রথমত, নিজের টাকা দিয়ে বর্তমানে আমাদের সমাজে খুব কম সংখ্যক মানুষই ভালো কাজ করছে.. এখন কেউ যদি ফান্ড কালেক্ট করে মানুষের পাশে দাড়ায় অবশ্যই সেটা প্রশংসার দাবি রাখে.. দ্বিতীয়ত, কোন মুসলিমের যদি যাকাত/কোরবানির টাকার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে তাহলে বিদ্যানন্দকে সেই টাকা না দিলেই পারে.. এমনিতে যে যতটুকু পারি সাহায্য করি…৷ (অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে অপবাদ দেয়া আমাদের ইসলাম সাপোর্ট করেনা.. সে কোন ধর্মের সেটা নিয়ে আলোচনা না করে তার দ্বারা আমাদের সমাজের উপকার হচ্ছে কি না সেটাই মুখ্য বিষয়.. আর বিদ্যানন্দের ভলান্টিয়াররা প্রচুর পরিশ্রম করে তারা সবাই প্রশংসার দাবিদার)।

বিদ্যানন্দ ফেইসবুক পেইজ থেকে নেওয়া ছবি

বিদ্যানন্দ নিয়ে এইমুহত্বে আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বিশিষ্টজনদের আহ্বান বিষয়টি যেন প্রধানমন্ত্রী সুস্ট তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করেন।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!