Breaking News :

অভাবের তাড়নায় ভাতের হাড়িতে পাথর ফোটাচ্ছেন মা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস হানা দেওয়ার পর এই ভাইরাসকে রুখতে পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ দেশেই শুরু হয় লকডাউন। কিন্তু এই লকডাউন হাজারো মানুষের জীবনে নেমে এসেছে মহামারীর চেয়েও ভয়ংকর অবস্থা। এই লকডাউনে হাজার হাজার অসহায় মানুষ হয়েছেন সর্বহারা , হাজার হাজার মানুষের মুখের খাবার নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে, চাকরি হারিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ ।

এই লকডাউনের ফলে প্রত্যেকটি পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। এমনই একটি ঘটনা আজ তোলে ধরবো-

ঘরে খাবার নেই, অভুক্ত দিন কাটছে ঘরের সন্তানদের । সন্তানদের অনাহারে মা দিশেহারা। কি করবেন এখন, কোথায় যাবেন খাদ্যের জন্য? সরকারী অনুদানের কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও তিনিতো পাচ্ছেন না সে অনুদান। তাহলে এই অনুদানগুলো যাচ্ছে কোথায়?

ঘটনাটি কেনিয়ার মোম্বাসা শহরে । মহিলাটির নাম পেনিনা বাহাতি কিতসাও। তার আটটি আদরের সন্তান । স্বামী মারা গিয়েছেন পেনিনার । অসহায় বিধবা মহিলা স্থানীয় লন্ড্রিতে কাজ করতেন । কিন্তু লকডাউের জেরে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর কাজ । যা জমানো ছিল তা শেষ হয়েগিয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরেই ঘরে দানা পানি নেই । এতগুলো পেট যেন আর চলছে না । সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেননি গত কয়েকদিন । খিদের জ্বালায় তাই কাঁদছিল তাঁরা । অসহায় গর্ভধারিণী সন্তানদের ভোলাতে রান্না করলেন পাথর । যাতে সেই পাথর রান্না হতে হতে কাংদতে কাঁদতে সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়ে । ভয়ানক এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে পেনিনার এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে । খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে এগিয়ে আসেন পেনিনার সাহায্যার্থে । অবশেষে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পেড়ে বেজায় খুশি মা ।

এমন হাজারো ঘটনা ঘটে চলছে আমাদের সমাজে। কেউ দেখছে আবার কেউ দেখছে না। মানবতা আজ মানব জাদুঘরে বন্দি অবস্থায় আছে। এরপরও অনেকেই তাদের সাধ্যানুযায়ী অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু এই ব্যক্তিগত উদ্যোগতো আর দিনের পর দিন চলা সম্ভব নয়।

বাংলা ক্যালেন্ডার