Breaking News :

কলম উপহার দিলেন র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম

স্পেশাল ডেস্কঃ মানুষ যুগযুগ ধরে বেঁচে থাকে না। কিন্তু বেঁচে থাকে তার কর্মকান্ড। আমি, আপনি যা করে যাচ্ছি তাই থেকে যাবে যুগযুগ ধরে। আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এমন একজন মানুষের গল্প যিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের অফিসার হওয়ার পরও সাধাসিধে জীবন যাপন করে আসছেন। অফিসার হওয়ার পরও দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় মাথায় খাবারের বস্তা বহন করে দেখিয়ে দিয়েছেন নেতা বা অধিনায়ক কাকে বলে এবং একজন নেতা বা অধিনায়ক হতে হলে কি কি করতে হয়।

সেই অফিসার আর কেউ নন সবার পরিচিত মুখ র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। তিনি ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন উত্তর বড়বিল গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বিলকিস বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। খুবই সাধারন তার চলাফেরা। সদা হাসোজ্জ্যল থাকে তার মুখমন্ডল। ইউনিফর্ম ছাড়া কেউ যদি উনার সাথে কথা বলেন। তাহলে বুঝা বড়ই মুশকিলি উনি আসলে আইনের সেবক না সাধারন একজন মানুষ।

গত ২৬ এপ্রিল মধ্যরাত। র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম উনার গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। হটাৎ চোখে পরে দুইজন মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। তিনি তার গাড়িটি তাদের সামনেে এনে থামান এবং তাদেরকে জিজ্ঞাস করেন কেন এতো রাতেে একজন মহিলা এবং পুরুষ এভাবে একলা ছুটাছুটি করছেন। রনজিত দাস জানান তার স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা উঠেছে কিন্তু অনেক খোঁজাখুজি করেও কোন গাড়ি পাচ্ছেন না।

র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম সাথে সাথে উনার নিজের গাড়িতে তাদেরকে উঠতে বলেন এবং তাদেরকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালের উদ্দ্যেশে রওনা হন। হাসপাতালে পৌছে প্রসবকালীন জটিলতায় জীবন সংশয়ে পড়া শিল্পী রানি পাল নামের এই নারীকে কোলে করে তিন তলার প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে যান। যা ফেইসবুক সহ অন্যান্য মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং প্রশংসা পায়।

পরবর্তীতে হাসপাতালে নিরাপদে পুত্র সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পরের দিনই নারীর স্বামী রনজিত দাস র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীমকে ফোন করে নবজাতকের নাম ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সন্তান জন্মলাভের প্রায় এক সপ্তাহ পর ( ১ মে, ২০২০) ছিল নবজাতক শিশুটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন দক্ষিণ উত্তরসূর গ্রামে রনজিত দাসের বসতবাড়িতে উপস্থিত হয়ে শিশুটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তা। তার অনুরোধে কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত একেবারে ঘরোয়াভাবে সম্পন্ন হয় নামকরণের প্রথা।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওই বাড়ির কাউকে বাইরে আসতে দেননি, এমনকি তিনি নিজেও যাননি ঘরের মধ্যে। দরজার সামনে উঁকি দিয়ে তিনি বাচ্চাটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি নবজাতকের হাতে একটি কলম তুলে দেন এবং তার মায়ের জন্য কিছু উপহারসামগ্রীও হস্তান্তর করেন।

বাচ্চাটির মা শিল্পী রানী পাল বলেন, স্যার যে আমাদের বাড়িতে এসে আমার সন্তানের নাম রেখে গেলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। আমি চাই, আমার ছেলে বড় হয়ে যেন স্যারের মতোই একজন মানুষ হয়।

বাচ্চাটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখার কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের একজন বড় ভক্ত আমি। তাছাড়া ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখতেও অনেক পছন্দ করতাম সেই ছোটবেলা থেকে৷ এই দুজনের মহাগুণী মানুষের নামের সাথে মিলিয়েই শিশুটির নাম রেখেছি আমি।

তিনি আরো বলেন, ছেলেটি বড় হয়ে কি হবে- না হবে, অনেক পয়সাওয়ালা বা জ্ঞানীগুণী হবে কিনা, তা নিয়ে আমার কোন চাওয়া নেই। শুধু চাই, সে যেন একজন মানুষ হয়। মানবজাতি এবং অন্য সকল সৃষ্ট জীবের প্রতি গভীর ভালবাসা বুকে ধারণ করেই যেন সে বেড়ে ওঠে- মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট নবজাতকের জন্য এটাই আমার দোয়া।

বাংলা ক্যালেন্ডার