Breaking News :

আবারও ঢাকায় ঢোকার চেষ্ঠা

গত ৫ই এপ্রিল গার্মেন্টস খোলার কথা ছিল। সেজন্য প্রায় ৩০লক্ষ কর্মী পায়ে হেঁটে ঢাকায় প্রবেশ করেছিল বিনা বাঁধায়। কিন্তু ঢাকায় আসার পর তারা জানতে পারে কোন কারখানা বা গার্মেন্টস খোলা না। কিন্তু এর দায় কেউই নিতে চায় নি।

মুল সংবাদঃ কারখানা খুলছে এমন খবরে সারা রাত দলে দলে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। কেউ আচ্ছেন ট্রাকে আবার কেউ মাছের গাড়িতে করে। তবে পথে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। পুলিশ বলছে, নির্দেশনা না থাকায় তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একদিকে গার্মেন্টস কর্মীদের চাকুরীতে যোগদানের নির্দেশ অন্যদিকে পুলিশকে কোন তথ্য না দেওয়া এটি গার্মেন্টস মালিকদের দায়িত্বহীনতার কথা বলছেন কেউ কেউ।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ময়মনসিংহ থেকে অনেক শ্রমিক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হয়ে অনেকে ঢাকায় যেতে পারেনি। তাই রাতের আঁধারে আবার তারা ঢাকার যাওয়া চেষ্টা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেক গার্মেন্টস কর্মীরা ঢাকার দিকে যেতে থাকে। বিকেলে ঢাকামুখী গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্রোত বাড়তে থাকলে ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে গার্মেন্টস খোলার কোনো নির্দেশনা নেই। এ কারণে শ্রমিকদের যেতে আমরা বাঁধা দিচ্ছি। রাতেও কিছু শ্রমিক সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে নির্দেশনা পেলে গার্মেন্টস কর্মীদের যেতে দেওয়া হবে।’

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন কল্পনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বিকেলে আমাকে ফোন করে বলছে আগামীকাল কারখানা খোলা। তাই নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত এসেছি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে। এখানে এসে পড়েছি পুলিশের বাধায়। তবে যেভাবেই হোক অফিসে যেতে হবে। না হলে চাকরি থাকবে না।’

ডিবিএল ও মন্ডল গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে তাদের অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তাই লকডাউনের মধ্যেই চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে তারা ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই রোববার থেকে ধাপে ধাপে খুলছে গার্মেন্টস কারখানা। শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইতে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় গার্মেন্টস কারখানা খোলার বিষয়টি অবহিত করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের অপর সংগঠন বিকেএমইএ। এরপর শ্রম মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালু করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে।

বাংলা ক্যালেন্ডার