Breaking News :

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার পা কাটার ঘটনায় মূলহোতা সহ ৪২ জন গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে রোববার (১২ এপ্রিল) দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং একজনের পা কেটে আনন্দ মিছিল করার পর উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ঘটনার দুই মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে আরোও ৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত রবিবারের এই ঘটনায় দেশে ও বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। হামলার পর ভিডিওতে দেখা যায় কেউ একজন কাটা পা নিয়ে যাচ্ছে এবং শ্লোগান দিচ্ছে এবং অন্য একজন বলছে মাথাটা কেন কেটে আনা হলো না।

স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থানাকান্দি গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা সর্দার আবু কাউসার মোল্লার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জের ধরে রবিবার উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিল্লুর রহমানের সমর্থক মোবারক মিয়ার (৪৫) এক পা কেটে নিয়ে  শ্লোগান দিয়ে গ্রামে আনন্দ মিছিল করে অপর পক্ষের আবু কাউসার মোল্লার সমর্থকেরা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পুরো জেলায় তোলপাড় শুরু হয়।

কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে দেশ ও বিদেশে এর ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট দ্রুত পদক্ষেপ নেন। বিভিন্ন স্থানে সারাশি অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাদের উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনার মূলহোতা কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর কলাবাগান থেকে ও থানাকান্দি গ্রামের কাউছার মোল্লাকে রোববার (১২ এপ্রিল) গভীর রাতে আশুগঞ্জের বায়েক গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এছাড়া সংঘর্ষে জড়িত থাকার দায়ে মোট ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশবাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বাংলা ক্যালেন্ডার