Breaking News :

করোনার ভিতরেই হান্টারের আঘাতে চিনে একজনের মৃত্যু

ভাইরাসের পর ভাইরাস একটি শেষ না হতেই আরেকটি আবার একটির মাঝেই আরেকটি। কিন্তু কেন? একবারও কি চিন্তা করে দেখেছেন কেন প্রকৃতি হটাৎ করে রাগান্বিত হয়ে উঠলো।

চীনের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা নিজে কোন সৃষ্টিকর্তাকে মানে না এবং অন্য ধর্মের মানুষকেও সৃষ্টিকর্তাকে মানতে দেয় না। ঠিক ইসরাইল, ইতালি, স্পেন এর মতো ইউরোপের দেশগুলোরও একই অবস্থা। ভাইরাসগুলোর প্রকৃতি, তাদের আচরনগুলো দেখলে মনে হচ্ছে তারা যেন কার আদেশ পালন করছে। আসলেই কি তাই। প্রশ্নটি পাঠকদের কাছেই থাকলো।

এবার আসি মূল খবরে, মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। একের পর এক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে একের পর এক শহর রীতিমত লক ডাউন হয়ে গিয়েছে। মহাদেশগুলো আজ ভূতের দেশে পরিনত হয়েছে। এর সাথে  ডুবতে বসেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ভয়ঙ্কর এই অবস্থার মধ্যেই ফের আতঙ্ক ছড়াল চিন। চিনের মাটিতে নয়া ভাইরাস-হান্টাভাইরাস। ইতিমধ্যে চিনের মাটিতে হানা দিয়েছে হান্টাভাইরাস। সোমবার চিনের হুনান প্রদেশে এই হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির৷ একটি চ্যাটার্ড বাসে করে শ্যানডং প্রদেশে যাওয়ারর সময় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়৷ বাসে বাকি ৩২ জনের শরীরেও মিলেছে এই ভাইরাস৷ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে চিনের গ্লোবাল টাইমসে৷ আর এই ভাইরাসের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে আতঙ্কের জন্ম নিয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে।

যদিও গবেষকরা বলছেন, করোনার মতো ওতটা মারাত্মক পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হবে না। কারণ এই ভাইরাস করোনার মতো মানুষের শরীরে এতটা ছড়িয়ে পড়ে না। তবে এই ভাইরাস অবশ্যই প্রাণঘাতী বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

এক নজরে দেখে নিন হান্টা ভয়ঙ্কর এই হান্টা ভাইরাসের উপসর্গ কি?

গবেষকরা বলছেন, সবে মাত্র এই ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আরও এই বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক ভাবে রোগীর মধ্যে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রবল জ্বর হচ্ছে। প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে একজন রোগীর। গায়ে পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা। একই সঙ্গে হচ্ছে পেট ব্যথাও। বর্তমানে চিনে করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। যে শহর থেকে প্রথম করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল সেখানে নতুন করে কোনও রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিছুটা হলেও স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন এই হান্টা ভাইরাস চিনের ডাক্তারদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকে বলছেন, একে করোনায় রক্ষা নেই দোসর হল হান্টা। মারণ এই হান্টা ভাইরাস মূলত ইঁদুর প্রজাতির প্রাণীর মাধ্যমে মানব দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। এই মারণ ভাইরাস মূলত প্রসাব থেকেই প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়ায় মানবদেহে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, হান্টা এই ভাইরাসকে এখনই আটকানো না গেলে বর্ণনার থেকেও আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

এবার দেখে নেওয়া যাক কী এই হান্টাভাইরাস:

দ্য সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের-এর মতে, এই ভাইরাস ছড়ায় সাধারণত ইঁদুর প্রজাতির প্রণীদের থেকে৷ তবে স্বস্তির খবর এই যে এটি করোনাভাইরাসের মতোই মানুষ থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে না৷ যদিও হান্টাভাইরাসও করোনাভাইরাসের মতো ফুসফুসে সংক্রমিত হয় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা যায়৷

হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ অর্থাৎ এইচপিএস-এর প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঠাণ্ডা লাগা এবং পেটের সমস্যা-সহ ক্লান্তি, জ্বর এবং পেশী ব্যথা৷ চিকিত্সা না-হলে এটি কাশি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে৷ সিডিসি অনুযায়ী এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩৮ শতাংশ৷

যদিও এইচএফআরএসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি একই থাকে, এটি নিম্ন রক্তচাপ, তীব্র শক, ভাস্কুলার ফুটো এবং কিডনির সমস্যা দেখা যায়৷ তবে একটা ভালো খবর এইচপিএস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না৷ পাশাপাশি মানুষের মধ্যে এইচএফআরএস সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন৷

বাংলা ক্যালেন্ডার