Breaking News :

নালা থেকে আরোও মৃত দেহ উদ্ধার

দিল্লির পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের পর অনেক লাশ নিখোঁজ ছিল। দু’দিনের এই সংঘাতের পর থেকে নিখোঁজ অনেকের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন স্বজনরা। এর মধ্যেই সংঘাতের ক্ষতচিহ্ন বিদ্যমান বিভিন্ন এলাকার নালা-নর্দমা থেকে মিলছে মরদেহ। এদিকে, এর সাথে সহিংসতার যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। তবে, লাশগুলো যে মুসলিমদেরই এবং কট্টরপন্থি হিন্দুদের হাতেই নিহত হয়েছে এ নিয়ে কারোও কোন সন্দেহ নেই।

ভারতের রাজধানী দিল্লির গোকুলপুরি এলাকার একটি নালা থেকে আরও পাঁচ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সহিংসতার পর নালাটিতে এ পর্যন্ত মোট ৯টি মরদেহের সন্ধান মিলেছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।

এদিকে সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিক্ষুব্ধ ছিল ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যসভায় একযোগে অমিত শাহ’র ইস্তফা চান বিরোধী প্রায় সব দলের আইনপ্রণেতারা। পার্লামেন্ট চত্বরেও চোখ বেঁধে প্রতীকী আন্দোলনে যোগ দেন কংগ্রেস-আম আদমিসহ বিভিন্ন দল। সহিংসতার ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ‘জেনোসাইড’ আখ্যা দেন পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে, মোদীর অনুসারী অমিত শাহ’র এ ব্যাপারে কোন অনুতপ্ত নয় তা ফুটে উঠেছে গত কালের বিজেপির জনসভায় তার  বক্তব্যের মধ্যে।

দাঙ্গার পর থেকে এখনও প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের খোঁজে হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। মর্গে নতুন কোনো লাশ এলে সেখানে দৌড়াচ্ছেন।

গুরু তেজ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে আসা সোনিয়া বিহারের বাসিন্দা পঙ্কজ বলেন, ‘আমার মা পুনম সিং এবং ভাগ্নে শাগুন ২৭ ফেব্রুয়ারি এ হাসপাতালে আসেন চিকিৎসার জন্য। তারপর থেকে তাদের খোঁজ মিলছে না। লোক নায়ক হাসপাতাল, জগপ্রদেশ চন্দ্র হাসপাতালেও খোঁজ নিয়েছি, পাইনি। আমার মায়ের ফোনও বন্ধ পাচ্ছি।’

হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, প্রতিদিনই হাসপাতালে স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই সারা দিন বসে থেকে দিন শেষে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার