Breaking News :

পুলিশের নির্যাতনে জাতীয় সংগীত গাওয়া যুবকের মৃত্যু

গত কয়েকদিনের উগ্রবাদী হিন্দুদের আক্রমণে ভারতে এ পর্যন্ত মৃত্যের সংখ্যা ৪৩ জন। তাদের মধ্যে যে ঘটনাটি বেশি ভাইরাল হয়েছে তা হলো পুলিশ দ্বারা নির্যাতন এর একটি ভিডিও।

দিল্লিতে মুসলিমদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা সীমা অতিক্রম করেছে। মৃতপ্রায় অবস্থায়ও তাদের রেহাই মেলেনি পুলিশের নৃশংস অত্যাচার থেকে। অবস্থা এমন যে তাদের মেরে মেরে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করে পুলিশ। একপর্যায়ে হাসপাতালে নির্যাতিতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। দিল্লির বিচারপতি পুলিশের কান্ডে বিরক্ত প্রকাশ করে বদলি পর্যন্ত হয়েছেন।

নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, নির্যাতিত যুবকদের এ অবস্থাতেই জোর করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো হচ্ছিল। না গাইলে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় মাথাও ঠুকে দেওয়া হচ্ছিল। জানতে চাওয়া হচ্ছিল, ‘‘আর আজাদি চাই!’’ কিনা! নৃশংস অত্যাচারের শিকার ওই পাঁচ যুবকের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

খবরে বলা হয়, মৃত ওই যুবককে ফয়জান (২৪) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীর বাসিন্দা তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় লোক নায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক কিশোর সিংহ বলেন, মঙ্গলবার নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ওই যুবককে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে। মুমূর্ষ ওই যুবকের শরীরে গুলি লাগে। শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। ডাক্তারের ভাষ্যমতে, গুলিটি তাকে খুব কাছ থেকে করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে ফুটপাতের পাশে নীল জামা পরিহিত একব্যক্তিকে দেখা যায়। তিনি-ই মৃত ফয়জান বলে শনাক্ত করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) বেদপ্রকাশ সূর্য জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এদিকে ভিডিওতে কৌসর আলী নামের এক ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানা গেছে। কৌসর আলীর ছেলে তারিক আলী জানান, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ একটা ফোন আসে। বলা হয়, আহত অবস্থায় গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তার বাবা। তারপর ফেসবুকে ওই ভিডিওতে বাবা কৌসর আলীকে দেখতে পান তিনি। কৌসর আলী পেশায় একজন চিত্রশিল্পী। ইন্ডিয়া গেট থেকে সোমবার কর্দমপুরীর বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি।

উগ্রহিন্দুরা মুসলমান যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই প্রহার করেছে এবং কিছু কিছু স্থানে সরাসরি গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন বোরকা পরিহিত মহিলা বা মেয়েকে কিছু পুলিশ জোড় করে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গাড়ির মধ্যে তুলে নিয়ে যায়। এমন অনেকগুলো ঘটনার ছবি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে কিছু শিশু ও মহিলা আল্লাহর কাছে হাত তুলে মোনাজাত করতে এবং তাদের বাড়ির নিচে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এই চিত্রগুলো দিল্লির প্রায় প্রতিটি স্থানেই দেখা যায়।

বাংলা ক্যালেন্ডার