Breaking News :

আজমীর শরীফ বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

ভারতে দিল্লির ঘটনার মধ্যেই এবার ফোনে আজমীর দরগা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে এক যুবক। পরে ঐ যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার জয়পুরের জেলা কালেক্টর বিশ্বমােহন শর্মাকে ফোন করেন যুবক সন্দীপ পানােয়ার। সেসময় আজমির দরগা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। তারপরেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পরেই বার্ষিক উরুস মহফিল। ঠিক এই সময়ে এধরনের হুমকিতে কার্যত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই আজমীর দরগাটি কি?

হিন্দু কিংবা মুসলিম সকল ধর্মের মানুষ যে পবিত্র স্থানে একসাথে উপসনা করে তা হল আজমীর শরীফ। হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (র:) এর দরগাহ যা খাজা বাবার মাজার নামেও পরিচিত। ভারতের রাজস্থানের আজমীর জেলায় অবস্থিত।

প্রতি বছর ১-৬ রজব তার ওফাত দিবসে এখানে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। খাজা মইনুদ্দিন চিশতী হলেন চিশতীয় ধারার ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক। তিনি ১১৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১২৩৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গরিবে নেওয়াজ নামেও পরিচিত। মইনুদ্দিন চিশতীই উপমহাদেশে প্রথম এই ধারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেন। তিনি ভারতে চিশতী ধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ধারা বা সিলসিলা এমনভাবে পরিচিত করেন। পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীরা যেমন, বখতিয়ার কাকী, বাবা ফরিদ, নাজিমদ্দিন আউলিয়াসহ আরো অনেকে ভারতের ইতিহাসে সুফি ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে কিংবদন্তিতুল্য একজন ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বীয় পীর উসমান হারুনীর নির্দেশে ভারতে আগমন করে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তারই মাধ্যমে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন।

এবিষয়ে সিভিল লাইন পুলিশ থানারএসএইচও রবীশ সামারিয়া জানান, জেলা কালেক্টর বিশ্বমােহন শর্মাকে একটি অপরিচিত ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে ফোন করে বােমা মেরে আজমির দরগা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সন্দীপ পানােয়ার। তার পরেই শর্মার টিম পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবগত করে শুরু হয় তদন্ত। গ্রেপ্তার করা হয় সন্দীপ পানােয়ারকে। যদিও অভিযুক্ত যুবকের দাবি, সে নিজের সমস্যার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার অভিযােগ না শােনায় হতাশ হয়েই এধরনের হুমকি প্রদান করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন।

তবে, ঘটনা যাই হোক না কেন? বর্তমানে ভারতে মুসলিমদের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতিদিন কোননা কোন রাজ্যে বিভিন্ন অযুহাতে মুসলামদেরকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। গত ৩-৪দিন ধরে ভারতের দিল্লিতে একতরফাভাবে পুলিশের সাহায্য নিয়ে মুসলমানদের বাড়ী-ঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাজার সহ মুসলমান হত্যায় মগ্ন আছে ভারতের বিজেপির মদপুষ্ট বজরং দল এর অনুসারীরা। তবে, সাধারন হিন্দুরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদের দাবী, বজরং দল হিন্দু দাবী করলেও আসলে তারা হিন্দু ধর্মের বিপরীত কাজ করছে। যা শত শত বছরের মুসলিম ও হিন্দুদের সম্প্রীতিকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার