Breaking News :

মানুষ হত্যার জন্যই করোনাভাইরাস তৈরী করা হয়েছিল

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় এবার প্রাণ গেলো উহানের উচ্যাং হাসপাতালের পরিচালক লিউ ঝিমিংয়েরও- এমন খবর এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। গত শুক্রবার এই হাসপাতালেরই লিউ ফ্যান নামে ৫৯ বছর বয়সী এক নার্স মারা যান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। চীনের স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, একদিনে ২ হাজার ৪৮ জন নতুন করে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। তবে হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, “গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে উওহান হাসপাতালের প্রধান মারা গেছেন, তবে এখনও এখনো তার চিকিৎসা চলছে।” খবর মেইল অনলাইনের।  এরইমধ্যে অন্তত ২৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। আর, এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭ শতাধিকের বেশি মানুষ। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে উৎপত্তির পর ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়।

কিছুদিন পূর্বে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা দাবী করে ছিলেন জীবাণু অস্ত্র বানাতেই চীন গোপনে তাদের উহানের ঐ ল্যাবটি বহুদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিল। ইসরায়েলি সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি শোহাম চীনের জীবাণু যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি বলেন, চীনের গোপন জীবানু অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই ইনস্টিটিউটের কিছু ল্যাবরেটরিতে চীনের নতুন নতুন জীবাণু অস্ত্র তৈরি এবং এসব অস্ত্র নিয়ে গোপনে গবেষণা করা হয়। ড্যানি শোহাম ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা শাখার জীবাণু এবং রাসায়নিক অস্ত্রের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। ২৭শে জানুয়ারী ২০২০ইং মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন টাইমস ইসরায়েলি ওই সামরিক সাবেক কর্মকর্তার দাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল।

purebangla.com

চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি কোথায় থেকে হয়েছে সেব্যাপারে এখনও পরিষ্কারভাবে জানতে পারেনি। তবে, তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে এটি হয়তো তাদের কোন পশু-পাখী বিক্রির বাজার থেকে ছড়িয়ে থাকতে পারে।

এখন প্রশ্নের তীর ছুটছে চীনের দিকেই। প্রশ্নটা এমন যে, জীবাণু অস্ত্র বানাতেই নাকি ভাইরাসটি তৈরি করেছিল তারা। আর, এর নেপথ্যে রয়েছে ১৯৮১ সালে প্রকাশিত লেখক ডিন কুনত্জের রহস্য উপন্যাস ‘আইজ অব ডার্কনেস’। সেই উপন্যাসে ‘উহান-৪০০’ নামে একটি ভাইরাসের কথা বলেছেন কুনৎজ। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘বায়োলজিক্যাল উইপন প্রোগ্রামের’ আওতায় চীনের সামরিক গবেষণাগারে এ ভাইরাসটি তৈরি করা হয়। প্রাণঘাতী কোনো ভাইরাসের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্যই মূলত এসব ভাইরাস তৈরি করা হয়। জৈবিক বিষাক্ত পদার্থ কিংবা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস-ছত্রাকের মতো সংক্রামক অণুজীবের মাধ্যমে বায়োলজিক্যাল এসব অস্ত্র তৈরি করা হয় অস্ত্র ছাড়াই মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে। টুইটারে এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে এই উপন্যাসের পোস্ট। টুইটারে উপন্যাসের যে ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে তার কিছু অংশ লাল কালিতে চিহ্নিত করা। তাতে বলা হচ্ছে, সামরিক বাহিনীরা এটিকে উহান-৪০০ বলে, কারণ উহান শহরের ঠিক অদূরে আরডিএনএ গবেষণাগারে এটি তৈরি করা হয়েছিলো এবং এটি ছিলো মানুষের তৈরি অণুজীবের ৪০০তম কার্যক্রম। প্রভাবশালী দেশগুলোতে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র তৈরির ইতিহাসও বেশ পুরোনো। অনেক যুদ্ধেই অ্যানথ্রাক্স, কলেরা, প্লেগের মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া একাধিকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

খুব দ্রুত ছড়াতে সক্ষম নতুন করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে এখন পর্যন্ত চীনে ১ হাজার ৭৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্ত সন্দেহে পরীক্ষা করা হচ্ছে চীনফেরত অনেককেই।

বাংলা ক্যালেন্ডার