Breaking News :

৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

হায়েনাদের কালো থাবায় আজ বাংলার প্রতিটি কোণায় কোণায় নারী জাতি আতঙ্কিত। ঘরে, বাইরে কোথায় নিরাপদ নয় তারা। এমনকি কোলের শিশুটিও আজ নিরাপদ নয় এই সমস্ত কোলাঙ্গারদের থেকে। তেমনই একটি খরব তুলে ধরছি আপনাদের সামনে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কনেশতলা কৃষ্ণনগর গ্রামের হাজী আবদুল আজিজের ছোট ছেলে কাতার প্রবাসী আবুল কালাম (৩২) । দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আবুল কালাম হলেন ছোট। পরিবার মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রথমে সৌদি আরব যান। সেখানে তিনি ৮বছর থাকেন । পরবর্তিতে সৌদি থেকে বাংলাদেশ ফিরে আসেন এবং পরে কাতারে প্রবাস জীবন শুরু করেন। কাতারে বর্তমানে একটি কোম্পানিতে ৪ বছর কর্মরত আছেন। সংসারের এক মাত্র মেয়ে নাবিলা আক্তার বয়স মাত্র ৪ বছর। ছোট একটি পরিবার। মেয়েকে নিয়ে ভালই কাটছিল তাদের সুখের সংসার।

কিন্তু সুখ তাদের বেশি দিন কপালে জুটে নি। সংসারে হানা দেয় এক বখাটে। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে নাবিলাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে এই  নরপশু। একই এলাকার ডা. আলী আশ্রাফের ছেলে মেহেরাজ হোসেন তুষার (২০)। এলাকায় মাস্তানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িত সে।

ঘটনার পরদিন ওই ভবনের একটি রুমে সিমেন্টের বস্তার নিচ থেকে নাবিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়।

নাবিলার বাবার অভিযোগ-  তুষার নাবিলাকে একটি নিমার্ণাধীন ভবনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। প্রথম দিকে অনেকেই এটি বিশ্বাস করেন নি। শিশু নাবিলাকে ধর্ষণ ও হত্যার পরদিন তার জানাজায় অংশ নিয়েছিল ঘাতক তুষার। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল সে।

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিবির একটি টিম এলাকায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তুষারের সম্পৃক্তার প্রমাণ পেয়ে ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সহিদার রহমান একটি টিম তুষারকে আটক করে।

৩১ জানুয়ারি কুমিল্লার আমলী আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তুষার। তুষার বর্তমানে কারাগারে।

শিশু নাবিলার কাতার প্রবাসী বাবা আবুল কালাম জানান, প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের মধ্যে যাচ্ছে। একমাত্র শিশু কন্যাকে হারিয়েছি। এখন তুষারের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে তুষারের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কখনও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের মতো পোশাকধারী এতো অসভ্য জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে আমার একমাত্র মেয়েকে কখনও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না।

এদিকে এই ঘটনায় আবুল কালামকে সহযোগীতা করার মতো কোন মানুষ তার পাশে দাড়ায়নি। এর কারন হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন তুষারের ক্ষমতাকে। এমনকি কোন নারীবাদী সংস্থাও তার সহযোগীতায় এগিয়ে আসেননি। এগিয়ে আসেননি কোন মানবাধিকার সংস্থা।

আসামী কারাগারে বন্দী অবস্থায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। আসামীর সিকারোক্তি করার পরও কেন এখন পর্যন্ত রায় হয়নি এই ব্যপারটি নিয়ে এলাকাবাসীর অনেকেই ক্ষুব্ধ।

উক্ত এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু মানুষ বলেছেন- ধষর্ণের মতো ঘটনা এই এলাকায় প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে যারা ঘটায় তারা খুব প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারন মানুষ জানমাল এবং সম্মানের ভয়ে মুখ খোলে না। তবে যেগুলো  প্রকাশ প্রায় তা পরবর্তিতে টাকার বিনিময়ে ধামা চাপা পরে যায়।

বাংলা ক্যালেন্ডার