Breaking News :

সরকারকে সতর্ক করলেন প্রণব মুখার্জি

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেলে স্থিতিশীল সরকার গড়ার অধিকার তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, তবে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী সরকারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়।

নয়াদিল্লি ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনে অটল বিহারি বাজপেয়ি মেমোরিয়াল লেকচারে প্রণব মুখার্জি এ কথা বলেন। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে প্রণব মুখার্জি এ কথা বলেন।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, প্রণব মুখার্জি বলেছেন, ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কোনো দলই ৫০ ভাগের বেশি ভোটে জয়ী হয়নি। তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি ৩৮ ভাগ ভোটে জয়ী হয়। ১৯৮৯ সালে কংগ্রেস ৩৯ দশমিক ৫ ভাগ ভোটে জয়ী হয়েছিল। এটাই ছিল নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির প্রশংসা করে বলেন, বাজপেয়ির দেশের জনগণের সঙ্গে ভালো সমঝোতা ছিল। প্রণব বলেন, ‘আমরা ১২ লাখ ৬৯ হাজার ২১৯ বর্গমাইল এলাকার বাসিন্দা। সাত ধর্মের চর্চা হয় এখানে। ১২২ ভাষায় কথা চলে। প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ আঞ্চলিক ভাষায় চর্চা হয়। অটলজি এই বাস্তবতা অনুসারে কাজ করেছেন।’

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লি-কলকাতা-মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গতকাল সোমবার বিক্ষোভ হয়েছে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, লক্ষ্ণৌ, আলিগড়, বেনারস, শিলিগুড়িসহ বড় বড় শহরে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বিশাল মিছিল হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। এ সময় তিনি বলেছেন, তাঁর রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি চালু করতে হলে তা করতে হবে তাঁর মৃতদেহের ওপর দাঁড়িয়ে। রাজধানী দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে দলের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস।

আগের দিন রোববার দিল্লি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছিল পুলিশ। পুলিশি এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে সেখানকার প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জামিয়া মিলিয়া, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার