Breaking News :

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর জট খুলতে শুরু করেছে

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু যে স্বাভাবিক ছিল না তা তার মৃত্যুর ধরন দেখেই বুঝা গিয়েছিল। এরপর ময়নাতদন্ত হওয়ার পর ১০০% নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এদিকে পুলিশ মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করার পর তার সাবেক প্রেমিক সৈকতের যোগসূত্র খুঁজে পায়। যেদিন ঘটনাটি  ঘটে সেদিন রুম্পাকে নিয়ে সিদ্ধেশ্বরীর সেই ভবনটিতে সৈকতকে ঢুকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উক্ত ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত শনিবার আটকের পর আজ রোববার সৈকতকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার রাজিব আল মাসুদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সৈকত (২২) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ’র ছাত্র। তাকে খিলগাঁও এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, রুম্পা ও সৈকতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অনেক আগ থেকেই। কিন্তু এই প্রেমের সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস ধরেই প্রেমিক সৈকতের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিলো রুম্পার। বিভিন্নভাবে তাকে এড়িয়ে চলতো সৈকত। ঘটনার দিন সৈকত রুম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসায় দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের দুই ভবনের মাঝে রুম্পার মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদেহ দেখে আশেপাশের লোকজন কেউ চিনতে না পারায়, শনাক্তের জন্য নিহতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়।

পরে জানা যায়, রুম্পার বাবা হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। বাবা হবিগঞ্জে থাকলেও মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঢাকার শান্তিবাগে থাকতেন রুম্পা এবং পড়াশুনা করতেন  স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত ভিডিও থেকে দেখা যায়, ঘটনার দিন গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে সৈকতসহ রুম্পা ওই ভবনে প্রবেশ করেন। ঘটনা তদন্তে রুম্পার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানান গোয়েন্দারা। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে খুব তাড়াতাড়ি মূল ঘটনা আসেলে কি ঘটেছিল তা বের করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।

তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, রুম্পা পড়া লেখার পাশা পাশি দুটি টিউশনি করাতো, ঘটনার দিন সে টিউশনি শেষ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পর  মাকে বলেন, তার কাজ আছে  এই বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে বেরিয়ে যান রুম্পা। কিন্তু কেন তিনি এই কাজটি করে ছিলেন এটি নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রাত যতই গভীর হচ্ছে রুম্পার চিন্তায় তার মা দুঃচিন্তায় ভোগছেন। পরিশেষে তিনি বিভিন্ন স্থানে রুম্পার খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু কোথাও কোন খোঁজ খবর না পাওয়ায় রমনা থানায় মেয়ের ছবি নিয়ে যান তিনি এবং অবশেষে মেয়ের করুন মৃত্যুর কথা জানতে পারেন।

যেহেতু মামলাটি গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালনা করছেন সেহেতু মিডিয়াতে উল্টাপাল্টা খবর না ছাপানোর অনুরোধ করেছেন রমনা থানার উধ্বর্তন কর্মকর্তা।

বাংলা ক্যালেন্ডার