Breaking News :

খারাপের ভিড়ে অসহায়দের কান্না চাপা পরে যায়

বর্তমানে ভিক্ষা করা একটি পেশায় পরিনত হয়ে গিয়েছে। উনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তেমন অভাবে না পরলে মানুষ ভিক্ষা বা সাহায্যের জন্য রাস্তায় নামতো না। তবে, সামান্য কিছু মানুষকে দেখা যেত ভিক্ষা করতে এবং তারা আসলেই খুব গরীব ছিলেন। ঠিক মত খেতে পেতেন না, ছিলনা মাথা গোজার কোন স্থান। এ হিসাবে তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন। কিন্তু দিন দিন মানুষের বিবেক বুদ্ধি লোপ পাওয়ার দরুন সুস্থ এবং অবস্থাশালী ব্যক্তিরাও ভিক্ষা পেশায় নেমে পরে এবং এর সাথে রয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট বাচ্চা ধরে নিয়ে তাদের দিয়ে এই জঘণ্য পেশায় বাধ্য করছে। এছাড়া রয়েছেন ৬০-৮০ বছরের বৃদ্ধ মানুষও। তাদেরকে স্মৃতি ভষ্ট করে করানো হচ্ছে ভিক্ষা।

আর এই সকল সিন্ডিকেট এর কারনে প্রকৃত গরীব বা ভিক্ষুক বা সাহায্য চাওয়া মানুষকে সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পরছে। সাধারন মানুষ সাহায্য করছেন ঠিকই কিন্তু সাহায্য দেওয়ার সময় নেতিবাচক মন্তব্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শীতকালের সকাল, সময় ১০ টা কিংবা ১১ টা হবে এর উপর প্রচন্ড রোদ! এই রোদেই ব্যস্থতম রাস্তায় দাড়িয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে পাগলের মত কাঁদতে কাঁদতে পথচারীর হাত পা ধরে টাকা ভিক্ষা চাচ্ছেন একজন অসহায় মা! এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দোওয়ালীপাড়া গ্রামে।

তার মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার মেয়ে সাথী (২) জন্মগতভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্টে ফুটা) হয়ে দিনে দিনে ধিরে ধিরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। ডাক্তাররা বলেছে দ্রুত তার হার্টের সার্জারী ও উন্নত চিকিৎসা না করা হলে হয়তো বাচ্চাটিকে যে কোন খারাপ পরিস্থতির সন্মুখিন হতে হবে। ডাক্তার আরও বলেছে অপারেশন করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে। প্রায় ৪ মাস চেষ্টার পরে শিশুটির মা মাত্র ৪০ হাজার টাকার যোগাড় করেছেন। শিশুটির চিকিৎসার জন্য আরও ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন। সাথে আনুষাঙ্গিক খরচতো আছেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো এদেশে টাকা বাতাসে উড়ে, খালে বিলে পাওয়া যায়, জুয়ার আসরে পাওয়া যায়, সুইস ব্যাংকে পাওয়া যায়। কিন্তু মানব রক্ষায় পাওয়া যায় না।

বাচ্চাটির পিতা শাহ আলম, মা শাপলা ও নানা আব্দুস সাত্তার বাচ্চাটিকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। শিশুটির মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ মেয়েটির দম বন্ধ হয়ে আসে, হাটতে গেলে দম বন্ধ হয়ে ধপ করে পড়ে যায়, হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসে বমি করে। বাচ্চাটিকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন শিশুটির পুরো পরিবার। কিন্তু এই ৪ মাসে তেমন কোন সাড়া পাননি তারা। হতাশ হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে তাদেরকে। এ যেন বেঁচে থাকার এক করুন আকুতি।

বাচ্চাটিকে বাঁচাতে যদি কারও সহযোগীতা করার ইচ্ছা হয় তাহলে নিম্নের হিসাবে টাকা পাঠাতে পারেন-

সঞ্চয়ী হিসাব নংঃ ১৩৫৮৭

হিসাবের নামঃ ছালেহা বেগম ( বাচ্চার নানী)

ব্যাংকের নামঃ অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।

শাখার নামঃ ভিতরবন্দ হাট শাখা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।

অবশ্যই টাকা পাঠানোর আগে  অগ্রনী ব্যাংকের থেকে একাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। ফোন নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

বাংলা ক্যালেন্ডার