Breaking News :

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে ২-২ গোলের সমতা

আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে হাড্ডাহাড্ডি এই লড়ায়ে শেষ পর্যন্ত ড্র দিয়েই ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলদুটি। এদিন ৬৬ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল আর্জেন্টিনা। দারুণ কিছু আক্রমণও করেছিল দলটি। বারপোস্টে মোট শট ছিল ১৬টি। তার ছয়টি লক্ষ্যে। কিন্তু গোল পায় দুইটি। অন্যদিকে পাঁচটি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রেখে সে দুটি থেকেই গোল আদায় করে নেয় উরুগুয়ে। একাদশে আগের ম্যাচ থেকে ৪টি বদল এনে দল সাজিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৪-৩-৩ ফরমেশনে শুরু থেকেই উরুগুয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে আর্জেন্টিনা।

সোমবার (১৮ই নভেম্বর ২০১৯) তেলআবিবে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু দুই দুইবার পিছিয়ে পড়ে দলটি। হতাশার ছাপ ফুটে উঠে দলের মধ্যে। কিন্তু মেসির বিচক্ষণতায় দুইবারই দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলে সমতাসূচক গোল পায় দলটি। এছাড়া গোল পেয়েছেন সের্জিও আগুয়েরোও। উরুগুয়ের হয়ে গোল দুটি করেছেন দলের সেরা দুই তারকা এদিসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজ।

খেলার ৩৪তম মিনিটে গোল পেয়ে যায় উরুগুয়ে। এদিসন কাভানির অসাধারন গোলে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। লুকাস তোরেইরার ক্রস ধরে গোল মুখে বল ঠেলে দেন লুইস সুয়ারেজ। তেমন কষ্ট করতে হয়নি তাকে আলতো টোকায় বল জালে জড়াতেও কোন ভুল করেননি কাভানি। নানা অঘটনের মধ্যে খেলাটি শুরু হয়।  পাঁচ মিনিটে বল জালে জড়িয়েছিলেন পাওলো দিবালা। তবে শট নেওয়ার আগে হাতে লাগলে বাতিল হয়ে যায় সে গোল। কিছুটা হতাশ হলেও পরে ম্যাচে শক্তি এবং মনোবল যোগায় মেসি।

খেলার ৬৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত এবং প্রত্যাশিত গোলটি পায় আর্জেন্টিনা। ফ্রিকিক থেকে মেসির নেওয়া অসাধারন ক্রসে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন সের্জিও আগুয়েরো। আর্জেন্টিনা তার হারিয়ে যাওয়া মনোবল যেন আবার ফিরে পায়। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ছয় মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বার্সার খেলোয়ার সুয়ারেজকে ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রিকিক পায় উরুগুয়ে। নিজেই শট নেন সুপারস্টার সুয়ারেজ। এ বার্সা তারকার দারুণ শট আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল জালে জড়ায়। আর্জেন্টিনা শিবিরে নেমে আসে হতাশা। তখন মনে হচ্ছিল হয়তো আর্জেন্টিনা ম্যাচে আর ফিরতে পারবে না।

কিন্তু ভাগ্য সহায় হয় ম্যাচের যোগ করা সময়ে। ফের সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে গোল আদায় করে নেন মেসি। ডি-বক্সের মধ্যে মার্তিন কেরেরেসের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে সরাসরি গোল করতে না পারলেও এবার আর ব্যর্থ হন মেসি। ৯২ মিনিটে করা মেসির গোলই শেষ পর্যন্ত দুই দলকে সমতায় রেখেছে। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি এসেছিল লিওনেল মেসির পা থেকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি মেসির ৭০তম গোল। ফলে ড্রয়ের সন্তুষ্টি নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার সেমি-ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হারের পর এ নিয়ে টানা সপ্তম ম্যাচে অপরাজিত থাকল দলটি।

বাংলা ক্যালেন্ডার