Breaking News :

ই-সিগারেট কেড়ে নিল কিশোরের প্রাণ

সিগারেটের ব্যবহার ছোট কাল থেকেই আমরা দেখে আসছি । সিগারেটের প্যাকেটে বিভিন্ন সর্তকতামূলক বিজ্ঞাপন লেখা থাকলেও এক জরিপে দেখা গিয়েছি পূর্বের থেকে আরোও বেশি সিগারেটের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। কাগজের মোড়কে তৈরি সিগারেটের বিকল্প হিসেবে মানুষ আস্তে আস্তে ই-সিগারেট এর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। আর এটি ফ্যাশনেবল হওয়ায় ব্যাটারিচালিত এই যন্ত্রটিতে প্রায়ই টান দিতে দেখা যায় বর্তমান তরুণদের।

কিন্তু সেই টানই এবার কেড়ে নিল বেলজিয়ামের এক কিশোরের। গত শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ভ্যাপিং ছাড়া কিশোরটির ফুসফুসে সংক্রমণের নির্দিষ্ট আর কোন কারণ পাওয়া যায় নি। ভয়াবহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় কিশোরের এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাগি ব্লক।

বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, রাফায়েল পাওয়ের্ট বয়স ১৮। জন্মদিনে বাবা-মা’র কাছ থেকে উপহার হিসেবে পান একটি ভ্যাপিং ডিভাইস। কিন্তু এই ই-সিগারেটই কেড়ে নিল সদ্য ১৮তে পা দেয়া এই কিশোরের প্রাণ। এতে তার বাবা-মা হতাশায় ভেঙ্গে পরেছেন। আর তার ছেলের মৃত্যুর জন্য নিজেদের বোকামিকেই দায়ি করছেন তারা।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ই-সিগারেট ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। দু’হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর অসুস্থ।

সাম্প্রতিক  সময়ে তারা একটি গবেশনা চালিয়েছেন এবং ঐ গবেশনায়ে উঠে এসেছে সিগারেট ও ই-সিগারেট এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। তাদের গবেশনায় বলা হয়েছে, নিকোটিন স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন ক্ষতিকর, তেমনই বিপজ্জনক ই-সিগারেটও। এছাড়া একটা নেশা ছাড়ানোর জন্য, অন্য একটা নেশা সামগ্রী ব্যবহার করাও মোটেই ভালো নয় এবং তা আর একটা নেশা করাই সমান বলে দাবি গবেষকদের।

সিগারেট কিভাবে এবং কখন থেকে প্রচলন হয়ঃ ইউরোপিয়ানদের মধ্যে বিখ্যাত নাবিক এবং আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসই প্রথম তামাক গাছ দেখেন। ১৪৪২ সালে কলম্বাস যখন সান সালভাদরে গিয়ে পৌঁছান তখন সেখানকার আদিবাসীরা মনে করেছিলো কলম্বাস ঈশ্বর প্রেরিত স্বর্গীয় জীব! তারা কলম্বাসকে উপহার স্বরূপ কাঠের তৈরি যুদ্ধাস্ত্র, বন্য ফলমূল এবং শুকনো তামাক পাতা দিয়েছিলো। অন্যান্য উপহার গুলো নিলেও কলম্বাস ধূমপান না করে তামাক পাতা গুলো ফেলে দিয়েছিলো।  ঠিক ঐ বছরই আরেকজন ইউরোপিয়ান রডরিগো ডি যেরেয (Rodrigo de Jerez) কিউবায় গিয়ে পৌঁছান এবং ইউরোপিয়ান হিসাবে তিনিই প্রথম ধূমপান করেছিলেন। রডরিগো ডি যেরেয ছিলেন স্পেনের নাগরিক। পরবর্তীতে স্পেনে ফিরে গিয়ে তিনি জনসম্মুখে ধূমপান করে মানুষজনকে চমকে দিতেন। এক জন মানুষের নাক এবং মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে এটা দেখে সাধারন মানুষ ভড়কে যেত। একটা সময় অনেকেই ভাবতে শুরু করে যে রডরিগো ডি যেরেযের উপর শয়তান ভর করেছে। তাই রডরিগোকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়! কারাগারে রডরিগোর সাথে থেকে অনেকেই ধূমপান শুরু করেন।  ১৮১৫ সালে সিগারেট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়। ১৮২৮ সালে নিকোটিনের পিওর ফর্ম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা।

১৮৫৬ সালে ক্রিমিয়ান যুদ্ধ ফেরত সৈন্যরা তুর্কি থেকে সিগারেট নিয়ে আসে। সৈনিকদের মাঝে সিগারেট অনেক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। অলসতা এবং বিষাদ দূর করার জন্য তখন সৈন্যদেরকে নিয়মিত সিগারেট সরবরাহ করা হতো। ১৮৬৫ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার ওয়াশিংটন ডিউক নামের এক ব্যাক্তি প্রথম সিগারেট রোল করে বিক্রি করা শুরু করে।

১৮৮৩ সালেজেমস বনস্যাক প্রথম সিগারেট রোল করার মেশিন আবিষ্কার করেন।  ১৯৫০ সালে সিগারেটের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে প্রথম প্রচারনা শুরু হয়। এই সময়ই ধূমপান এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। ড. ওয়াইন্ডার এবং ড. গ্রাহাম একটি গবেষণায় দেখান যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯৫% মানুষই ২৫ বছর বা তার বেশী সময় ধরে ধূমপানে আসক্ত।

সিগারেটে ৫৭টি মারাত্মক রাসায়নিক উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তেমনি একটি হলো নিকোটিন। একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে দুটি সিগারেট এ যে পরিমান নিকোটিন আছে তা যদি একটি সুস্থ মানুষ এর দেহে ইঞ্জেক্ট করে দেয় তাহলে সে মানুষটি তখনি মারা যাবে।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!