Breaking News :

কখনও কখনও চর্বিও হতে পারে দেহের জন্য উপকারী

চর্বি এই নামটি শুনলে অনেকেই মোটা হওয়ার কথাই ভেবে থাকেন তবে চর্বি জাতীয় খাবারের কথাই এখন জানবো যেগুলো খাওয়া উপকারী এবং পুষ্টিতে ভরপুর থাকে। কিন্তু এই চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দেওয়ার আগে একবার হলেও জেনেনিন এদের কিছু উপকারীতা।

১. অ্যাভোকাডোঃ অ্যাভোকাডো কে আঞ্চলিক ভাবে মাখন ফল বলা হয়। ওমেগা ৯ ফ্যাট সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো ত্বক এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে চমৎকার কাজ করে। এটি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট যেমন- পটাসিয়াম সরবরাহ করে এবং ব্যায়ামের পরে খাওয়ার জন্য এটি চমৎকার। এই ফলটি ফোলেট এর মত বি ভিটামিন এর একটি চমৎকার উৎস। ফলটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে পুষ্টি জোগায়। তাই এই ফলটি বাদ দেওয়ার আগে একবার ভাবুন।

২. বাদামঃ বাদাম পুষ্টির চমৎকার উৎস। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড। বাদামে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকলেও তাদের পুষ্টির ঘনত্বও প্রচুর। বাদামে প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যাান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার বিপাককে বৃদ্ধি করবে এবং আপনার হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখবে। আপনি জানেন কি যৌবন ধরে রাখতে বাদামের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে সারারাত যদি সেই বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে খান তবে তো তার সুফল পাবেনই আপনি। তাই প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা: হাড়ের স্বাস্থ্য়ের উন্নতি ঘটে, ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়, ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকে, পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, কোষেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে।

৩. ডিমের কুসুমঃ প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম হলো আদর্শ প্রোটিন। এখানে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। অনেকেই ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে সাদা অংশটি খান। ডিমের কুসুম চর্বিতে সমৃদ্ধ হলেও ভিটামিন এ, বি ভিটামিন, কোলিন এবং সেলেনিয়াম এ সমৃদ্ধ থাকে। ঘাস বা তৃণ খাওয়া মুরগীর ডিমে উচ্চমাত্রার ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন ডি থাকে। ডিমের কুসুমে থাকে ‘লুটিন’ ও ‘জিযান্থিন’ নামক দুই ধরনের ক্যারাটেনোয়েডস। যা চোখকে অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

৪. ননীযুক্ত দুগ্ধ জাতীয় পণ্যঃ এই খাবারগুলোতে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলেও হৃদস্বাস্থ্য এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতার জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান পটাসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর পরিমাণ ও অনেক বেশি থাকে। তাই প্রতিদিন ১ গ্লাস ননীযুক্ত দুধ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। পূর্ণ ননীযুক্ত দুধে যে কোলেস্টেরল ও ফ্যাট থাকে, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বলেই পুষ্টিবিদরা জানান। বরং তা শরীরের জন্য উপকারি।

৫. নারিকেলের দুধঃ নারিকেল দুধ একটি জনপ্রিয় খাদ্য উপকরণ যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশের দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন কারণে অনেকেই গরুর দুধ পান করতে পারেন না। কেউ কেউ আমন্ড মিল্ক, সয়া মিল্ক এবং কোকোনাট মিল্কের ওপর নির্ভর করেন। এই দুধে মধ্যম মানের ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং আপনার পরিপাক নালীকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অতিবৃদ্ধির হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই আপনার পছন্দের তরকারিতে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে যোগ করুন নারিকেলের দুধ। রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সৌন্দর্য চর্চায়ও নারিকেলের দুধ বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

৬. চিয়া বীজঃ চিয়া সিড হল হাল-ফ্যাশনের খুব অল্প কিছু “সুপারফুড”গুলোর একটি, যার এই তকমাটি আসলেই সার্থক। চিয়া সিড বা চিয়া বীজ হল দুনিয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যগুলোর একটি। শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী পুষ্টি দিয়ে ভর্তি এই জিনিস। চিয়া বীজ শুধু ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডেরই সমৃদ্ধ উৎস নয়, এদের মধ্যে লিগনেন্স নামক যৌগ ও থাকে যা আপনার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমতে সাহায্য করে। তাই আপনার সকালের সিরিয়ালের সাথে ১ চা চামচ চিয়া বীজ যোগ করুন।

আরোও কিছু খাবার ছিল যা পরবর্তিতে কোন একদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজ এই পর্যন্ত।

বাংলা ক্যালেন্ডার