Breaking News :

ইসরাইলি ম্যালওয়ারের আয় ছিল ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

এই ম্যালওয়ারের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন অধিকারকর্মীকে নজরদারি করার সময়। পরে জানা যায়, এটি শুধু মোবাইলের কার্যক্রম নয় বরং একটি শব্দ পরিবহন মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। অর্থাৎ ব্যবহারকারী আশেপাশে কার সঙ্গে কী কথা বলছেন তাও এর মাধ্যমে শোনা সম্ভব। এই ম্যালওয়ার বিক্রি করে প্রচুর অর্থও আয় করছে ইসরাইলি কোম্পানিটি। শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই এর আয় ছিল ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ সাল ২০১৯ দিল্লির ফ্রিল্যান্স একজন সাংবাদিক নাম রাজিব শর্মা, তার ফোনে একটি কল আসে। কলের অপর প্রান্তে হিলটন নামক কানাডাভিত্তিক ইন্টারনেট গবেষণা সংস্থা সিটিজেন ল্যাবের এক গবেষক। তিনি রাজিব কে একটি বিস্ফোরক খবর দেন। যা শোনার মতো হয়তো তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। তাকে জাননো হয় ইসরাইলে ডেভেলপ হওয়া একটি ম্যালওয়ারের মাধ্যমে তার ফোনটি এবং ভারতের আরোও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবীদের মোবাইল ফোনটি হ্যাক করা হয়েছিল।

এই হ্যাকিং টুলটি নিজে থেকেই হোয়াটস অ্যাপ ভিডিও কল ফাংশনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইনস্টল হতে পারতো। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয় ভারতের কমিপউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম বা সিইআরটিকে। সংস্থাটি দেশটির কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। সতর্ক বার্তা পেয়ে তারা তাদের ওয়েবসাইটে হোয়াটস অ্যাপ হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নিয়ে একটি বার্তা প্রকাশ করে। তবে সমপ্রতি সেটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সাংবাদিক রাজিব শর্মা বলেন, এটা সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। যাদের টার্গেট করা হয়েছে তাতে বোঝা যায়, এটি সরকার পরিচালিত নজরদারি কার্যক্রম। যাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে তারা সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিরোধীদল বা বিদেশি রাষ্ট্রের কর্মকর্তা। এটি ভারতের পাশাপাশি বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মেক্সিকোতেও হয়েছে।

ইতিমধ্যে যেই ইসরাইলি কোমপানি ওই ম্যালওয়ারটি ডেভেলপ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই হ্যাকিং টুল দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০০ মোবাইলে আড়ি পাতা হয়েছে।

তবে ইসরাইলি কোমপানি এনএসও দাবি করেছে, এটি শুধুমাত্র সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। এর উদ্দেশ্য সন্ত্রাসবাদ ও বড় ধরনের অপরাধ দমনে সাহায্য। কিন্তু একে কোনোভাবে সাংবাদিক বা অধিকারকর্মীদের নজরদারিতে রাখতে তৈরি করা হয়নি।

বাংলা ক্যালেন্ডার

Alert! This website content is protected!