Breaking News :

হেগে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা

অবশেষে কোন একটি দেশের টনক নড়ল মায়ানমারদের বিরুদ্ধে তাও আবার ২০১৯ সালের প্রায় শেষের দিকে। তবে, এই উদ্যোগটি অনেকের জন্য বিষের মতো মনে হলেও রোহিঙ্গাদের জন্য কিছুটা হলেও হতাশার মাঝে আশার আলোর মতো। মামলাটি করেছে গাম্বিয়া নামক একটি দেশ। অথচ সৌদিআরব সহ আরোও অনেক বড় বড় দেশ ছিল যে রাষ্ট্রগুলো ইসলামিক দেশ হিসেবে পরিচিত।

বিস্তারিতঃ গাম্বিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে  মামলা করেছে।  জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালতে গাম্বিয়া অভিযোগে উল্লেখ করে মিয়ানমার গণহত্যা করে  ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ ভঙ্গ করেছে। গাম্বিয়ার আইন মন্ত্রী আবুবকর তামবাদউর বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গাম্বিয়া প্রমাণ হিসেবে ৪৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) জমা দিয়েছে। তাদের অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছে।

হেগের আদালতে প্রথমবারের মতো সতন্ত্রভাবে গণহত্যার তদন্ত করা হবে, তবে এর আগে আইসিজে মামলাটি গ্রহণ করতে হবে। এর আগে এ ধরণের অপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানের উপর নির্ভর করত আইসিজে। আইসিজে-র বিধান অনুসারে, সদস্য দেশগুলি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিরোধী অন্যান্য সদস্য দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দু’দেশেই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ যেটি শুধু দেশগুলোতে গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয় বরং এ ধরণের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য বিচার করতে বাধ্য করে।

ডিসেম্বর মাসে আইসিজেতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বিষয়ে গাম্বিয়ার উপ-রাষ্ট্রপতি ইসাতু টুরাই বলেছেন, তার ছোট দেশ এই মহাদেশ এবং এর বাইরেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বড় গলায় প্রতিবাদ করবে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রতিবেদন তৈরিতে আইনী নেতৃত্ব নিয়েছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্য গাম্বিয়া। অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রও তাদেরকে সমর্থন দিয়েছে। এবং ভবিষ্যতে গাম্বিয়াকে সহায়তা করবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছে। তবে গাম্বিয়ার একজন মন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপটি আরোও আগে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ইসলামীক দেশ সৌদি আরবের নেওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু তাদের কর্মকান্ড ঠিক যেন অমুসলিম শাসকদের মতো। পশ্চিমা দেশের তাবিদারে তারা ব্যস্ত। তবে, গাম্বিয়ার সরকার আশা করে সৌদি সরকার তাদেরকে সহযোগীতা করবে।

বাংলা ক্যালেন্ডার