Breaking News :

১২০ মাইল গতিতে আঘাত হানা বুলবুল নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে

কয়েকদিনের আতঙ্ক ও নির্ঘুমের পর অবশেষে হাফ ছেড়ে বাঁচলো গোটা দেশ। এরপরও যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষাবার নয়। তবে, সুন্দরবন বাংলাদেশের জন্য যে এক আর্শীবাদ তা বুলবুল তান্ডবে আবারও প্রমানিত হলো। একটি দেশের জন্য বনভুমি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐ ভূমিটিকে নিজের সন্তানের মতো আগলিয়ে রাখে, ‍সুন্দরবন না থাকলে হয়তো আমরা আজ বুঝতাম না।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রথমে তান্ডব চালায় পশ্চিমবঙ্গে এরপর পরই সে ঢুকে পরে বাংলাদেশের সীমানায়। বুলবুল খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চল অতিক্রম করে কুমিল্লা অভিমুখে রওনা করে। তবে, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ প্রবেশের মুখে একপাশে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, আর সুন্দরবন ছিল তিন পাশে। বাংলাদেশের দিকে যত এগিয়ে আসছে ততই শক্তি হারিয়েছে বুলবুল। আর প্রতিবারের মত এবারও ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবন।

ঘূর্ণিঝড়ের দিকটি ছিল উত্তরমুখি, তাই সুন্দরবনের কারণে তার অবস্থানের পরিবর্তন কমে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের নিজস্ব শক্তিও কমে আসে। এ কারণে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘক্ষণ সময় লেগেছে। ফলে পূর্ণ শক্তি নিয়ে বুলবুল বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশ আরোও একবার বেঁচে গেল বিশাল ক্ষয়ক্ষতি থেকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যে গতিতে আসার কথা ছিল, সেই গতিতে আসেনি। ঘূর্ণিঝড়টি জলভাগের ওপর তেমন শক্তি প্রয়োগ করতে পারে নি। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আঘাতের সময় এটি গাছ, স্থাপনাসহ বিভিন্ন কিছুর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, বাধা প্রাপ্ত হয়। এ কারণে গতি আস্তে আস্তে কমে যায়। এর তার সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিল বাংলাদেশের সুন্দরবন।

অন্যদিকে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে মহাবিপদ সংকেত ১০ থেকে নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গেল ৫ই নভেম্বর উত্তর আন্দামান সাগরে উৎপত্তি হয় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের। পরবর্তী কয়েকদিনে তীব্র আকার ধারণ করে ঘূর্ণিঝড়টি। গেল বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরের দিকে ধেয়ে আসে। শনিবার ভারতের পশ্চিম বঙ্গে আঘাত হানার পর এটি রোববার রাতে বাংলাদেশ খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট অঞ্চলে ঘন্টায়  ১০০ থেকে ১২০ মাইল গতিতে আঘাত হানে বুলবুল। অবশ্য স্থলে এসে ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপে রূপ নেয়।

সর্বশেষঃ সাতক্ষীরায় ১৬ হাজার বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধি। সরকারের পূর্ব প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তবে হতাশার খবরটি হচ্ছে, বরগুনা জেলায় ৪৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন তাদের খোঁজ এখনও মিলেনি। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত অমান্য করে তারা সাগরে গিয়েছিল মাছ ধরতে।

স্থানীয় একজন সাংবাদিকের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন- আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এরা বেশী টাকার লোভে এত বড় ঝুঁকি নিয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস করেন, এই মানুষগুলোকে আমি চিনি। এই নিশানবাড়িয়া, পাথরঘাটা আর তালতলির এইসব জেলেদের সাথে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছি। ওদের ঘরে বসে নারিকেল দিয়ে মুড়ি খেয়েছি। এই যে গত মাসে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিলো, প্রায় শ’খানেক জেলে পরিবার দিনে দু’বেলা খেতে পায়নি। সরকারি ত্রানের ২০ কেজি চাল এদের বাড়ি পৌছে নি। টানা দুই/তিন দিন এদের বাড়িতে চুলা জ্বলে না। ক্ষুধা’র জ্বালা কত প্রকট হলে মানুষ মৃত্যুকে ভয় করে না তা আমরা সাহেবরা কখনো বুঝবোনা।

বাংলা ক্যালেন্ডার