Breaking News :

বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

যে দেশ অস্ত্র নিজে তৈরি করে অন্য দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে সেই অস্ত্র দুই দেশের মধ্যে বিক্রি করতো আজ সেই দেশ বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র ক্রয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্যাপারটি আশ্চর্য হলেও সত্য। কেননা বর্তমানে আমাদের দেশ কারও থেকেই পিছিয়ে নেই। খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এসেছে বাংলাদেশের তৈরি অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার প্রস্তাব। এতে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির তৈরি অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা মজুদ পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অনেক বছর থেকেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি করে আসছেন। যদিও ভারত তাদের অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি করার জন্য একটি চুক্তি করে ছিল। চুক্তি অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশকে অস্ত্র কিনতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের থেকে অস্ত্র কিনার কোন যুক্তি যুক্ত কারন তারা দেখছেন না এবং যেহেতু আমাদের দেশেই উন্নতমানের অস্ত্র তৈরি হচ্ছে সেহেতু এটি অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি হাস্যকর মনে হলেও ঘটনাটি সত্য এবং এটি একটি ইতিবাচক দিক। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার-অর্ডন্যান্স বা আইও ইনক নামের একটি কম্পানি এ ধরনের অস্ত্র কিনে থাকে। তারা রুমানিয়া ও পোল্যান্ড থেকে পুরনো অস্ত্র আমদানি করে । সে ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র কিনতেই পারে। তারা অনলাইনেও বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কেনা-বেচা করে থাকে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিকে বলা হয়েছিল তারা যেন তাদের উৎপাদিত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মজুদকৃত পুরনো অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানী করার চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্যে তার অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পারে বিভিন্ন দেশ তাদের নতুন বা পুরনো অস্ত্র বিক্রি করে থাকে বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে যারা নতুন এবং মজুদকৃত পুরনো অস্ত্র কিনে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার-অর্ডন্যান্স বা আইও ইনক নামের কোম্পানীটির সাথে যোগাযোগ করলে তারা  বাংলাদেশে তৈরি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মজুদ পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র ধ্বংস না করে রপ্তানি করতে চাইলে তা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাশ (বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সাবেক কমান্ড্যান্ট) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মজুদ অস্ত্র ও ব্যবহার অনুপযোগী গোলাবারুদ রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য শুভসূচনা এবং খুবই খুশির খবর। প্রতিটি দেশই তার সক্ষমতা বাড়াতে চায়। বাংলাদেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করা হলে একদিকে যেমন দেশের রপ্তানি ঝুড়িতে একটি নতুন পণ্য যোগ হবে, অন্যদিকে ডিফেন্স ডিপ্লোমেসিতে একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। বিশ্বে সব দেশ সব কিছু তৈরি করে না। তাই বাংলাদেশ যদি যুদ্ধকালীন বা জরুরি প্রয়োজনের দিকটি মাথায় রেখে নিজেদের সক্ষমতায় তৈরি বাড়তি অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে তা অবশ্যই ইতিবাচক। এতে আমাদের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির প্রসার ঘটবে।’

বাংলা ক্যালেন্ডার