Breaking News :

সৌদিতে বাংলাদেশীদের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে দেখার কেউ নেই

বর্তমানে সৌদিতে খুবই খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে বিশেষ করে শ্রমিকদের জন্য আর সেই শ্রমিকরা যদি হয় বাংলাদেশের তবে তো কোন কথাই নেই। সেই সাথে মহিলা শ্রমিকদের সাথে চলছে বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন। সাম্প্রতিককালে কয়েকজন নারী শ্রমিকের উপর অমানবিক অত্যাচার এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে বাঁচার আকুতি তাই প্রমান করে।

এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত বুধবার সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ৯৬ জন বাংলাদেশি। রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানে তারা দেশে ফেরেন।

নভেম্বর মাসের প্রথম পাঁচদিনেই মোট ৪২১ জন ফিরলেন। এর মধ্যে,

– ১ নভেম্বর ১০৪ জন,
– ২ নভেম্বর ৭৫ জন,
– ৩ নভেম্বর ৮৫ জন,
– ৪ নভেম্বর ৬১ জন ও
– গতকাল ৬ নভেম্বর ৯৬ জন ফিরেছেন।

বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী,  ২০১৯  সালে দশ মাসের মধ্যে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২০ হাজার ৬৯২ বাংলাদেশি।

মো. হান্নান মিয়া বাড়ি গাজিপুর জানান, তিনি ১৫ বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও সৌদি পুলিশ রাস্তা থেকে তাকে ধরে। আকামা দেখানোর পরেও তাকে ছাড়া হয়নি।

মহিউদ্দিন বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জানান, তিনি তিন বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সাড়ে ১৮ হাজার রিয়াল দিয়ে ইকামা নবায়ন করেছিলেন। কিন্তু তাকে এখন ধরপাকড়ে পড়ে ফেরত আসতে হলো শূন্য হাতে।

তোফাজ্জল  বাড়ি কিশোরগঞ্জের  জানান, মাত্র আড়াই মাস আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এর মধ্যেই তাকে ফিরতে হলো।

আলম বাড়ি ময়মনসিংহ,
জয়নাল বাড়ি নোয়াখালী,
সবুজ মিয়া বাড়ি জামালপুর,
মামুন বাড়ি বরিশাল সহ

আরও অনেকই তাদের দুরবস্থার কথা জানান।

তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার তিন নারী আজ ৭ই নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। পরিবারের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল ব্র্যাক। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় তারা ঢাকা ফিরবেন। এরা হলেন, মনোয়ারা, মিনা, শাহিদা।

শরিফুল হাসান ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান জানান, ২০১৯ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বছরের কোন কোন মাসে কত কর্মী ফিরেছে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি গত দুই মাস (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) ধরে ধরপাকড়ের তীব্রতা বেড়েছে।

তিনি আরো জানান, বেশিরভাগ শ্রমিক মনে করেন ইকামা থাকলেই তিনি সেখানে বৈধ। কিন্তু কেউ যদি বৈধ ইকামা থাকার পরেও যেখানে কাজ করার কথা সেখানে না করে অন্য জায়গায় কাজ করেন, সৌদি আইন অনুযায়ী সেটাও অপরাধ। এই বিষয়গুলো কর্মীদের বোঝাতে হবে। আর রিক্রুটিং এজেন্সিকেও নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো একজন কর্মী যেখানে যান সেখানে গিয়ে সেই কাজ পান। ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের কিছু এজেন্ট এর জন্য আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং ঐ সকল এজেন্টদের কেউ কেউ কোন একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে এই কাজগুলো করে আসছে। অতিসত্বর এই সকল এজেন্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরোও খারাপ কিছু বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে।

বাংলা ক্যালেন্ডার