Breaking News :

বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে রহস্য জনক মৃত্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ

জীবনটা যেন এখন মূল্যহীন হয়ে পরেছে, শুক্রবার মানুষ আরও একবার দেখলো  দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর আনন্দ আয়োজনে বিদ্যুৎস্পর্শে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার নিহতের মধ্য দিয়ে।

এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, স্কুলছাত্র আবরারের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও ঘটনা চেপে রেখে অনুষ্ঠান চালিয়ে যায় কিশোর আলো। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে শিক্ষার্থীরা বলছে, সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়েছে।

আবরারের কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ তার মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তার প্রশ্ন, ‘মৃত্যুর খবর চেপে রেখে কেন গান চললো, অনুষ্ঠান চললো?’

প্রথম আলো প্রথম দিকে কাউকেই এই ঘটনা জানায় নি এবং আবরারকে হাসপাতালেও পাঠায় নি। পরবর্তিতে ঘটনা চেপে রেখে আবরারকে কলেজের পাশের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই।

কলেজের একজন শিক্ষক বলেন (নাম প্রকাশ না করার শর্তে), ‘আয়োজকরা তাকে কাছের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়।’ ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের অংশীদার ছিল বলে তিনি জানান।

অপর একজন শিক্ষার্থী বলেন, আবরার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় আহত হয়েছে, এর কিছুক্ষন পর ডাক্তাররা তাকে দেখে এবং তারা বলে সে মারা গেছে। কিন্তু তখন কেন ঘটনাটা সবাইকে জানানো হয়নি। আপনি শুনলে অবাক হবে অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই ওর ডেডবডিটা ছিল।কোন সুস্থ্য মানুষদের পক্ষে কি অনুষ্ঠানটা চালান সম্ভব। সম্ভব তাদেরকে দিয়েই যারা মানুষকে পশুর চেয়েও অধম মনে করে। এই অনুষ্ঠানটি আরোও দুই ঘন্টা যাবৎ চলে এবং গান বাজনাও হয়।

এদিকে এ ঘটনায় সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনার জন্য সুষ্ঠ তদন্তের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দিতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছে। যদি না দেওয়া হয় তবে কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়োজকদের একজন বলেন, এমনটি কেন হলো তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে তিনি বলেন প্রথম আলোর গাফলতিই কিছুটা দায়ি। কেননা তাদের কাছে অনুষ্ঠানটাই বেশি হয়ে দাড়িয়েছিল।

কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক  এর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, এ জাতীয় দুর্ঘটনা কেন ঘটল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নাইমুল আবরারকে চিরকাল স্মরণ করা হবে।

কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজ সহ অন্যান্য আলামতগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আশা করি এর একটা সুরাহা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে কলেজ ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয় নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার (১৫)।

বাংলা ক্যালেন্ডার