Breaking News :

আইসিসির প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

আইসিসির প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে জুয়াড়ি আগারওয়ালের সঙ্গে তার কথোপকথন নিয়ে যা আছে:

  • চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এবং ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশে সাকিব আল হাসানের সাক্ষাৎকার নেয় আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট। তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্রিকেটে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছে জানতে চান তারা। ওই সন্দেহভাজনের নাম দীপক আগারওয়াল।
  • ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব।
  • সেসময় সাকিব জানতে পারেন যে তার টেলিফোন নম্বর আগারওয়ালকে দেওয়া হয়েছে। তারই পরিচিত একজন ব্যক্তি আগারওয়ালকে নম্বর দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তিটির কাছে আগারওয়াল বিপিএলে খেলা ক্রিকেটারদের নম্বর চেয়েছিলেন।
  • ২০১৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি আগারওয়ালের প্ররোচনায় হোয়াটসঅ্যাপে বেশকিছু মেসেজ আদান-প্রদান করেন সাকিব। সেখানে দেখা যায়, আগারওয়াল সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন।
  • ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন সাকিব। সিরিজ চলাকালে হোয়াটসঅ্যাপে তার এবং আগারওয়ালের মধ্যে আরও কথাবার্তা হয়।
  • ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে সেরা হওয়ায় সাকিবকে ওই দিনই হোয়াটসঅ্যাপে শুভেচ্ছা জানান আগারওয়াল। ওই মেসেজের পর আগারওয়াল আরেকটি মেসেজ বলেন, ‘আমরা কি এখানেই কাজ করব নাকি আমি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব’।
  • এখানে ‘কাজ’ বলতে সাকিবের কাছ থেকে দলের ভেতরের তথ্য জানার কথা বোঝাতে চেয়েছেন আগারওয়াল।
  • আগারওয়ালের সঙ্গে এই যোগাযোগের কথা সাকিব আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট (আকু) অথবা অন্য কোনো দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
  • ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি আগারওয়াল আরেকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাকিবের কাছ থেকে দলের ভেতরের তথ্য জানার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজে কি কিছু হতে পারে?’
  • সাকিব নিশ্চিত করেছেন যে এই অনুরোধের মাধ্যমে আগারওয়াল সেসময়ের ত্রিদেশীয় সিরিজ সম্পর্কে ভেতরের তথ্য জানার চেষ্টা করেন।
  • আগারওয়ালের সঙ্গে এই অনুরোধের বিষয়টি সাকিব আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট (আকু) অথবা অন্য কোনো দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
  • ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেছিলেন সাকিব।
  • ওই দিনই হোয়াটসঅ্যাপে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় খেলবেন কিনা তা জানতে চেয়ে আগারওয়াল সাকিবকে মেসেজ করেন। অর্থাৎ ফের ভেতরের তথ্য জানতে চান তিনি।
  • এর পরেও সাকিবের সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যান আগারওয়াল। বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন আগারওয়াল এবং সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের বিবরণ জানতে চান। এর পরই সাকিব বলেন যে তিনি ‘আগে’ আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান।
  • ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিলের ওই কথোপকথনের সময়ে বেশ কিছু মেসেজ ডিলিট করা (মুছে দেওয়া) হয়েছিল। সাকিব নিশ্চিত করেছেন যে ডিলিট করা মেসেজগুলোতে তার কাছে ভেতরের তথ্য জানতে চেয়েছিলেন আগারওয়াল।
  • সাকিব নিশ্চিত করেছেন যে আগারওয়ালকে নিয়ে তার শঙ্কা ছিল। তার মনে হয়েছিল যে সে ‘সন্দেহজনক’। আর ওই কথাবার্তার পরে তার মনে হতে শুরু হয়েছিল যে আগারওয়াল একজন বুকি (জুয়াড়ি) ছিল।
  • ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিলের ওই যোগাযোগের বিষয়টি এবং আগারওয়ালের কাছ থেকে তিনি যে প্রস্তাব পেয়েছিলেন তা সাকিব আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট (আকু) অথবা অন্য কোনো দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
  • আইসিসির কপিটি পিডিএফ আকারে পেতে লিংকটিতে ক্লিক করুনঃ আইসিসির ডিসিশন সাকিব অক্টোবর ২০১৯

সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির অভিযোগগুলো আপনারা পড়লেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে –

  1. কে সাকিবের মোবাইল নম্বর আগারওয়ালকে দিয়েছিল?
  2. সাকিবের হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজগুলো কিভাবে আইসিসির হাতে পৌছালো?
  3. যদি উপর প্রান্তে সত্যিই আগারওয়াল থেকে থাকেন তবে কি তিনিই মেসেজগুলো দিয়েছিলেন?
  4. তিনি যদি সত্যিই জুয়ারী হয়ে থাকেন তবে কি তিনি এই কাজটি করবেন?
  5. অপর প্রান্তে যে ছিল সে কি আমাদের বাংলাদেশেরই কেউ অথবা “র” এর কোন এজেন্ট?
  6. হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজকি হ্যাক অথবা ট্রেক করা যায়?
  7. হোয়াটসঅ্যাপ কোম্পানী কি নিজেই এগুলো আইসিসিকে দিয়েছে?
  8. যদি দিয়ে থাকে তবে হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে কোন মামলা করার উপায় কি আছে?

এ প্রশ্নগুলো অনেকেই করেছেন। কিন্তু এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে সাকিবের মতো আর যেন বলি না হয় এ ব্যাপারটি মাথায় রাখা জরুরী।

বাংলা ক্যালেন্ডার