Breaking News :

১৮ মাস নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব

সাকিবের কাছে জুয়ারীদের ফোন এবং সাকিবের সেটি গোপন রাখা। অবশেষে বিসিবি এই গোপন তথ্যটি গোপনীয় ভাবে জেনে যাওয়া। রহস্যের মাঝে রহস্যের তৈরি হয়েছে সারা বাংলাদেশ জুড়ে।

আজকের সমস্ত পত্রিকায় একটিই শিরোনাম সাকিব ১৮ মাস নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। এই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন আজকে সকাল থেকে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রকৃত ঘটনা পর্যবেক্ষণ না করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমানে চলছে বিসিবির বিষোধগার। অনেকেই আবার গত কয়েকদিনে চলা খেলোয়াড়দের আন্দোলন এবং বিসিবি সভাপতির সাকিবকে নিয়ে করা কিছু তির্যক মন্তব্য থেকে দুইয়ে দুইয়ে চার প্রমাণ করার জোড় চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আপনাদের সকলের জানা দরকার, সাকিব আল হাসান ম্যাচ পাতানো বা স্পট ফিক্সিং এর মতো অনৈতিক কোন কাজে জড়িত ছিলেন না এটি স্বচ্চ পানির মতো পরিস্কার। গত দু’বছর আগে ২০১৭ইং সালের দিকে জুয়াড়িদের কাছে অনৈতিক প্রস্তাব পেয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

কিন্তু সাকিব আল হাসান সেটি বিসিবি এবং আইসিসিকে জানান নি। মূল সমস্যাটি হয়েছে এখানেই। আইসিসির দুর্নীতি দমন নীতিমালায় আছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ জুয়াড়িদের কোন ধরণের অনৈতিক প্রস্তাব পেলে তাৎক্ষনিকভাবে আইসিসি বা নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে জানাতে হবে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এখানে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো নয়।

কিন্তু আইসিসি প্রায় সকল খেলোয়ারদের বিরুদ্ধে প্রায়ই তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তদন্ত করে থাকে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই যখন সাকিবের বিরুদ্ধে নিজস্ব তদন্ত করেন তখন তদন্তে জুয়াড়িদের থেকে সাকিবের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে এবং এ নিয়ে সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় এবং সাকিব আল হাসান বিষয়টি জানান এবং নিজের ভুল স্বীকার করে তদন্তে সাহায্য করে। এ প্রেক্ষাপটে তার শাস্তির ব্যাপারে আইসিসি নমনীয় হতে পারে। আইসিসি থেকে ১৮ মাস নিষেধাজ্ঞা হতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষমাসাপেক্ষে এ ধরণের অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে পারেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বিসিবি এসব ব্যাপারে এতদিন অন্ধকারেই ছিল। খুব দরকার না পড়লে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডকে না জানিয়ে সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় আকসু (অ্যান্টিকরাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট) স্বাধীনভাবে তদন্ত করে। নিজেদের আইন বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করার পর আইসিসি সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডসহ সবাইকে জানিয়ে দেয়। আগামীকাল ৩০ তারিখ সাকিবের ব্যাপারে আইসিসির রিপোর্ট বিসিবির হাতে আসার কথা রয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই বিসিবি সাকিবের পাশে থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে সারা দেশব্যাপী ক্রিকেট প্রেমিরা বিভিন্ন প্রতিবাদ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকের ধারনা বিসিবির সভাপতি এবং অন্যায় অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় সাকিবের বিরুদ্ধে বিসিবির সভাপতি প্রতিশোদমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।

বাংলা ক্যালেন্ডার