Breaking News :

জুয়ারীর কাছে বাংলাদেশের আরোও একটি উইকেট এর পতন

ঘটনার শুরু যেখান থেকে- একজন নামকরা জুয়ারী সাকিবকে ফিক্সিং এর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সাকিব তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। পরবর্তিতে ঘটনাটি আইসিসিকে জানানোর নিয়ম থাকলেও সাকিব ঘটনাটি চেপে যান। যে জুয়ারী তাকে প্রস্তাব করে ছিল সে আইসিসির কালো তালিকা ভুক্ত। যেহেতু আইসিসির কাছে এটি প্রমানিত হয়েছে সেহেতু সাকিব ২৪ মাসের জন্য নিষিদ্ধ  হন। তবে দোষ স্বীকার করার কারনে এবং তার বক্তব্যে আইসিসি সন্তুষ্ট হওয়ায় ২৪ মাসের স্থানে তাকে ১২ মাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবরটি নিশ্চত করা হয়। আগামী বছরের ২০২০ সালের ২৯শে অক্টোবর এর পর তিনি সবধরনের ক্রিকেট খেলেতে পারবেন। সাকিবকে যে ফাসিয়েছেন সে ভারতেরই একজন নাগরীক, নাম তার দীপক আগারওয়াল। সে একজন কালো তালিকাভুক্ত জুয়ারী। সাকিবকে টার্গেট করে ছিল সে। কিন্তু সাকিবের সততা এবং মেধার কাছে সে পরাজিত হয়। কিন্তু তখনই যদি সাকিব তার বিষয়ে আইসিসি বা বিসিবিকে জানাতো তাহলে আজ সাকিবকে শাস্তির সম্মুখিন হতে হতো না।

এদিকে আইসিসির শাস্তি সাকিব আল হাসান মেনে নিয়েছেন এবং তিনি আইসিসিকে জানান, ক্রিকেট না খেলতে পারাটা তার জন্য অনেক কষ্টের ও দুঃখজনক। তিনি আরোও বলেন, আমার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে আমি তা মেনে নিচ্ছি। আমি শুধুমাত্র ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলাম তাই বিষয়টি আকসুকে জানাইনি। নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ্য হয়েছি। তবে, এটাও জেনে রাখা ভালো আমি অন্যান্য খেলোয়ারদের মতো দুর্নীতিমুক্ত ক্রিকেট চাই। আমি মনে করি এই ভুল আমাদের সবার জন্য শিক্ষা এবং এই ভুল থেকে সকলেই ভবিষ্যতে শিক্ষা নিবে।

আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার আলেক্স মার্শাল বলেন, সাকিব আল হাসান নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং তিনি বলেছেন, আমি আশা করি তরুনরা ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কাজে জড়িয়ে না পরে এবং এ নিয়ে তিনি কাজ করবেন। তার প্রস্তাব পেয়ে আমরা আনন্দিত।

আইসিসির আইনানুযায়ী কেউ যদি কোন বাজিকর বা জুয়ারীর কাছ থেকে কোন কল পায় তাহলে তা আইসিসি অথবা আইসিসির দুর্নীতি দমন সংস্থাকে জানাতে হবে। যদি কেউ এ ধরনের খবর লুকিয়ে রাথে তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য হবে।

আইসিসির দুর্নীতি দমন সংস্থা তাদের বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেন, সাকিব আল হাসান তিনবার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পান। এর মধ্যে দুইবার পান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ আইপিএল এ। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে ট্রাই নেশন সিরিজে বা ২০১৮ সালে আইপিএলএ ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পান তিনি এবং তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে বিষয়টি তিনি গোপন করে রাখেন।

বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে ট্রাই নেশন সিরিজে আবারও ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পান তিনি এবং এবারও তিনি তা গোপন রাখেন।

২০১৮ সালের আইপিএলএ আবার তিনি প্রস্তাব পান। সানরাইজার্স হায়দারাবাদ বনাব পাঞ্জাব ম্যাচে তিনি এই প্রস্তাব পান। এবারও তিনি বিষয়টি গোপন করে যান।

তবে, ক্রিকেট বিশ্লেষকরা জানাচ্ছে প্রতিবছরই আইপিএল সহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে প্রায়ই জুয়ারীদের কাছ থেকে ভারতীয় খেলোয়ারদের কাছে কল এসে থাকে কিন্তু তারও ব্যাপারগুলো গোপন করে রাখে। যদি বাংলাদেশ এর সাকিব আল হাসান এর বিরুদ্ধে আইসিসির কাছে সমস্ত তথ্য উপাত্ত থেকে থাকে। তাহরে ভারতীয় খেলোয়ারদের সেই সকল তথ্য কেন তাদের কাছে নেই বা থাকে না এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ গঠন করা হয় না।

বাংলা ক্যালেন্ডার