Breaking News :

চীনের উইঘুর মুসলিমদের লাশ উদ্ধার

পুরো পৃথিবী জুড়ে মুসলমান হত্যা ও নিপীরন এখন নিত্য দিনের খবরে পরিনত হয়েছে। মুসলমারা যেন আজ পশুতে পরিণত হয়েছে। পুরো বিশ্ব আরেকবার দেখল ভয়াভয় এক নিষ্ঠুরতা। ব্রিটেনে লরিতে লাশগুলো আসলে মুসলমান শরণার্থীদের।

মূল সংবাদ-  ব্রিটেনে লরি থেকে যে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা চীনের উইঘুর মুসলিমদের লাশ । গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডনের বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে লন্ডনের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। তারা জানান লাশগুলোকে প্রথমে বেলজিয়াম বা এর আশেপাশের মনে করা হয়েছিল। কিন্তু লাশগুলোকে ফরেনসিক বিভাগ থেকে উইঘুর মুসলিমদের লাশ হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

এদিকে লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি যে, মৃতদের আটজন নারী এবং ৩১ জন পুরুষ। উনারা সবাই চীনের নাগরিক বলে মনে করা হচ্ছে।  লন্ডন পুলিশের বিবৃতি থেকে এ ধারণা প্রবল হয়েছে যে, মৃতরা উইঘুর মুসলিম।

উল্লেখ্য, যাদেরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে তারা সকলেই চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করে এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবর্ণনীয় নিপীড়নের শিকার হয়।  প্রচুর সংখ্যক উইঘুর শরণার্থী বসবাস করে তুরস্কে, সেখান থেকে ইউরোপে প্রবেশের অনেক পথ রয়েছে। এ ব্যাপারে আল জাজিরার অনুরোধেও কোনো মন্তব্য করেনি লন্ডনের চীনা দূতাবাস।

অন্যদিকে চীনের সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে।লাশগুলো চীনের উইঘুর মুসলিমদের লাশ। এছাড়া সংবাদপত্র আর কোন সংবাদ দিতে পারেনি।

ঘটনাটি গত বুধবারের-  লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের গ্রেইস শহরে পরিত্যক্ত একটি লরি থেকে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বুধবার নৌকায় বেলজিয়াম থেকে লন্ডনের গ্রেতে পৌঁছেছিলেন ওই চীনারা। এসেক্সের পুলিশ বলছে, তাদের তদন্তের প্রাথমিকভাবে জোর দেয়া হয়েছিল লরি থেকে উদ্ধারকৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা। লরি থেকে লাশ শনাক্তের জন্য টিলবুরির কাছে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। এর আগে ২০০০ সালে লন্ডনের দক্ষিণাঞ্চলের দোভার বন্দর থেকে চীনের ৫৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে সময় চীনা এই নাগরিকরা নেদারল্যান্ডের একটি ট্রাক ভাড়া করে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে ওই ট্রাক থেকে দু’জনকে জীবিত এবং বাকিদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলামন নিধন করা হয় ফিলিস্থিনিতে কিন্তু এই রেকর্ডটি গত কয়েক যুগ যাবৎ ধরে রেখেছেন চীন। যদিও সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে তেমন কোন জুড়ালো রির্পোট নেই। কিন্তু  কয়েক বছর যাবৎ আমেরিকার বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বার বার দাবি করে আসছিলেন চীনে মুসলমানদের নির্যাতন, জোড় করে অমুসলিমদের সাথে মুসলিম মেয়েদেরকে বিয়ে করে দেওয়া , ‍বিভিন্ন ক্যাম্প তৈরি করে মুসলমান শিশু ও পুরুষদেরকে বন্দী করে রাখা এবং যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা সহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে।

সূত্র : আলজাজিরা

বাংলা ক্যালেন্ডার