Breaking News :

টয়লেটে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক

আমাদের সবচেয়ে গৌরবের একটি অংশ হলো বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। ১৯৭১ইং সালে ২৫শে মার্চ ভয়াল রাতে সর্বপ্রথম অস্ত্র হাতে নিয়েছিল আমাদের পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহীদ করা হয় বাংলাদেশী অনেক পুলিশকে। সেই স্মৃতি আজও ভুলার নয়। কিন্তু সেই ঐতিহ্য যখন কিছু অসৎ চরিত্রহীন লম্পটদের হাতে ম্লান হয়ে যায়। তখন পুলিশ কর্মকর্তাদের উচিৎ কঠোরতার সাথে সেই সকল অন্যায়কে প্রতিহত করা এবং উপযোক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।

আদালতের মতো পবিত্র একটি স্থানে টয়লেটে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে আরিফ হোসেন নামে সহকারী উপপরিদর্শক। রক্ষক যেন ভক্ষক।

তিনি চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ লাইনস থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে প্রত্যাহারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুুবর রহমান।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সকালে এবং সাথে সাথেই ওই ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামী শরীফ গাজীর মামলা চলমান রয়েছে। তার বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামে । শরীফ গাজী তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে। ওই নারীও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। বুধবার স্বামীর করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনি। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরিফ হোসেনকে বিচারপ্রার্থী সেই নারীর সঙ্গে জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় বাথরুম থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে উপস্থিত জনতা। পরে তাদের দু’জনকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফ হোসেন জেলা জজ আদালতে পুলিশ বিভাগে কর্মরত। তার কাজ হচ্ছে, জেলখানা থেকে প্রতিদিন আসামিদের আনা-নেওয়া করা। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত পরিদর্শক (অপরাধ) নাজমুল হককে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত জমা দেবেন তিনি।

তদন্তে পুলিশ সদস্য আরিফ হোসেন দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, কারো ব্যক্তিগত দায় পুলিশ বহিনী নিতে পারে না। ওই দিন ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আদালতে ছুটে যান। এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহায়তায় আটক পুলিশ ও নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরে তাদের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে নারীকে তারপরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলা ক্যালেন্ডার