Breaking News :

স্ত্রী ও সন্তান সহ সেনা সদস্য নিখোঁজ

বগুড়ার শাজাহানপুরে হৃদয় (৩১) নামে এক সেনা সদস্য স্ত্রী-সন্তানসহ ছুটিতে এসে  নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাতে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার ছোট ভাই রানা  ।

আমরুল ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া গ্রামে নিখোঁজ হৃদয়ের বাড়ি । বাবার নাম মৃত নুরুজ্জামান। ছোটভাই রানা জানান, প্রায় ১২ বছর আগে হৃদয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত আছেন। গত ৬ অক্টোবর ১০ দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ১০ অক্টোবর দুপুরে তিনি উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বামুনীয়া খিয়ারপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান  স্ত্রী ও ৬ বছরে ছেলেকে নিয়ে । পরদিন হৃদয়ের ঘর থেকে তার জামাকাপড় ও একটি এলইডি টিভিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভ্যানে বোঝাই করেন তার শ্বশুর রবিউল ইসলাম এবং তার ঘরে তালা লাগিয়ে তিনি চলে যান। পরে হৃদয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ টুকুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার জানা মতে তিনি (হৃদয়) ঋণগ্রস্ত ছিলেন। কিছু দিন আগে বিভিন্ন মানুষের থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋন দিয়ে সম্ববত তিনি একটি গরুর খামার দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর  খুরা রোগে একটি গরু মারা গেলে বাকি ৭-৮টি গরু পানির দামে বিক্রি করে দেন। এতে সম্ভবত তিনি ঋন গ্রস্ত হয়ে পরেন। আমার মনে হয় সেই টাকার জন্য তিনি হয়তো গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে হৃদয়ের যোগাযোগ থাকতে পারে। কিন্তু তারা এখন অস্বীকার করছেন।

তার ছোট ভাই রানা আরও জানান, গত ১৮ অক্টোবর যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনা সদস্যরা তাদের বাড়িতে এসে হৃদয়ের খোঁজ করেন এবং বলেন তাকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছ, বের করে দাও। তখন আমি হৃদয়ের শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নেই । শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারাও কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর থেকে হৃদয়, তার স্ত্রী-সন্তানসহ নিখোঁজ রয়েছেন। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা খবই চিন্তিত আছি।

হৃদয়ের শ্বাশুড়ি বিলকিছ বেগম এর সাধে কথা হলে তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর দুপুরে মেয়ে ও জামাই তার বাড়িতে আসে এবং ওইদিন সন্ধ্যায় খাওয়া-দাওয়া শেষে সে আবার তাদের বাড়িতে চলে যায়। পরে তাকে ফোন দিলে আমি ফোন বন্ধ পাই। তাদের খোঁজ না পেয়ে আমরা থানায় জিডি করেছি। তিনি আরোও বলেন, আমাদের বিরেুদ্ধে বলা হচ্ছে আমরা নাকি জামাইয়ের বাড়ি থেকে জামাকাপড়, এলইডি টিভি নিয়ে আসছি, আসলে সেখান থেকে শুধুমাত্র ভ্যানে করে খড় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিখোঁজ সেনা সদস্য এবং তার স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে । বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আশা করি অতি দ্রুতই এর একটি সমাধান আমরা করতে পারবো।

বাংলা ক্যালেন্ডার