Breaking News :

সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা ১৩ দফা দাবিগুলো হলো

যে প্রথম দাবিটি এ চিঠিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়েল এসোসিয়েশন এর যারা বর্তমান অফিস বেয়ারাস আছেন তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। কেন তাদের পদত্যাগ করতে হবে এটি আপনাদেরকে বুঝতে হবে। এটা কোন ব্যক্তিগত ইস্যু নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেখানে পেশাদার ক্রিকেটারদের পেশাদার সংগঠন আছে। সেই সংগঠনে একটা স্বাধীনতা থাকে একটা স্বতন্ত্রতা থাকে। আমি যাদের প্রতিনিধি করছি তারা এই স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা ১৩ দফা দাবিগুলো হলো:
১। বাংলাদেশ ক্রিকেটার ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনে (কোয়াব) এর যারা বর্তমান অফিস বেয়ারার আছেন। তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। যেহেতু তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এ অন্যান্য পদে আসিন আছেন এবং তাদের কেউ কেউ হয়তো ক্লাবের সাথে জড়িত আছেন এবং যেহেতু কেউ কেউ স্পন্সরদের সাথে জড়িত এই কারনে ক্রিকেটাররা মনে করে যে তাদের স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তাদের একটা অসুবিধা আছে। তাদের স্বার্থের দ্বন্দ স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। এটা তাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয় এটা তাদের অবস্থানের কারনে।

এই কারনে তাদের দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটার ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন এর যারা বর্তমান অফিস বেয়ারার তাদেরকে রিজাইন / পদত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশে একটি প্রফেশনাল এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রফেশনাল ক্রিকেট এসোসিয়েশন এর ধারনা হলো যে একটা প্রফেশনাল ক্রিকেট এসোসিয়েশন থাকবে এর একটা উপযোক্ততা থাকবে, যারা প্রিমিয়ার বিভাগে ক্রিকেট খেলছে, যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছে, যারা জেলা ভিত্তিক খেলা খেলছে, যাো টি২০ ক্রিকেট খেলছে, যারা নির্দিষ্ট সংখ্যক খেলা খেলেছে তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রফেশনাল ক্রিকেট এসোসিয়েশন এর সদস্য হবে এবং প্রতি বছর তারা নির্বাচন করবে। তাদের মধ্য থেকে একটা অফিস বেয়ারার ইলেক্ট করা হবে।

এ অফিস বেয়ারাররা প্রয়োজনে প্রফেশনাল অফিস এক্সকিউটিভ নিয়োগ দিবে। এবং ক্রিকেটার এসোসিয়েশন এর কাজ হবে ক্রিকেটারদের পেশাগত স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করবে এটা হলো প্রথম দাবি। এই দাবিটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে বিকাশ ঘটছে এবং যে বিকাশ ঘটবে এর জন্যি এটি যুক্তি সংগত। ক্রিকেটের ইতিহাস বিবেচনা করলে এটি নতুন কিছু না। কেননা ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডে প্রফেশনাল ক্রিকেট এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুটি সংস্থার কাজ হলো ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ান যারা পেশাদার খেলোয়ার আছেন তাদের স্বার্থ সংরক্ষন এবং প্রতিনিধিত্ব করা।

কিন্তু বাংলাদেশে যখন ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কথা উঠে এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কথা উঠে তখন দেখা যায় যে এটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ব্যক্তিগত আশ্বাস, ব্যক্তির কাজের উপর নির্ভরশীল।

আমরা মনে করি যে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম একটি পরিনত টিম এবং বর্তমানে এটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।

২. ঢাকা ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আগে যে অবস্থায় ছিল তাতে ফিরিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ড্রাফ্ট সিস্টেমে আছে। ক্রিকেটারদের পেমেন্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্ধারন করা আছে। ক্রিকেটার কোন ক্লাবে খেলবে কত টাকা পাবে এটা তার নিয়ন্ত্রন নেই।  কোন ক্লাবে খেলবে ক্রিকেটাররা পছন্দ করে যেতে পারতো আগে। এই ব্যবস্থায় ফিরে আসতে হবে।

৩. এ বছর না হলেও পরের বছর থেকে আগের মতো বিপিএল আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ১ লাখ করতে হবে। গোটা বছর কোচ-ফিজিও দিতে হবে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে। ডিএ ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না, তাই বাড়াতে হবে। ট্রাভেলে বিমানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভালো মানের হোটেল হতে হবে।

৬. চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ও বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ থেকে গ্রাউন্ডস ও আম্পায়ার, সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ওয়ানডে বাড়াতে হবে। বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টির টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার নির্দিষ্ট করতে হবে।

১০. বিপিএলের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

১১. ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দুটোর বেশি খেলা যাবে না, এই নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

১২. ক্রিকেটের ব্যবস্থপনায় আমরা স্বচ্ছতা চাই। এর একটা ভাগ আমরা চাই।

১৩. বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ভালো করছে। নারীদের ক্ষেত্রেও তাদের ন্যায্য হিসাব দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ মুহূর্তে কথা বলতে আসেন তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। সাকিব বলেন, আমরাও দ্রুত সমাধান চাই এবং সবাই মিলে আলোচনা করে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। কারণ, আমরা মনে করি বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের মতই রয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা এবং আমরা মিলেই আসলে বিসিবি। সুতরাং, কারো প্রতি আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই, দুঃখ কিংবা বিরাগ নেই। আমরা কিছু যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছি এবং নিজেদের ঘুচিয়ে নেয়ার জন্য দেড়টা দিন সময় নিয়েছি। এখন আমরা যে কোনো সময় বোর্ডের সঙ্গে বসতে পারি।

বাংলা ক্যালেন্ডার