Breaking News :

তুরস্কের পাশে রাশিয়া কিন্তু ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা উল্টো পথে

তুরস্কের এই মিলিটারি অপারেশানের মুল লক্ষ্য – সিরিয়া আর তুরস্কের সীমান্ত এলাক থেকে কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী এসডিএফকে হটিয়ে তুরস্কে ২০১১ সাল থেকে আশ্রয় নেয়া সিরিয়ান শরণার্থীদের সিরিয়ার এই অঞ্চলে পুনর্বাসন করে সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত নিউট্রাল জোন তৈরি করা। তুরস্ক এই অপারেশানকে তাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে।

তুরস্ক কি ঢালাও ভাবে কুর্দি বিরোধী এর উত্তর হলো  ‘না’। ইন জেনারেল তুরস্কের সরকার তুরস্কে বসবাসকারী কুর্দিদের তুরস্কের নাগরিক মনে করে। আর প্রচুর কুর্দি তুর্কিদের সাথে মিলেমিশে তুরস্কে বাস করে। ইরাকে বসবাসকারী কুর্দিদের সাথে তুরস্কের ভালো সম্পর্ক আর প্রচুর ব্যবসায়িক লেনদেন আছে।

তবে যেইসব কুর্দি তুরস্ককে ভাগ করে নিজেদের জন্য স্বাধীন ভুখন্ড চায় তারা হচ্ছে মারক্সিস্ট -লেনিনিস্ট দর্শনে বিশ্বাসী মিলিটেন্ট পলিটিক্যাল গ্রুপ পিকেকে। পিকেকের সাথে তুরস্কের সব সরকারের বিরোধ গত ৪০ বছর ধরে।

এদিকে নর্দান সিরিয়ায় পরিচালিত এন্টি টেরর অপারেশনে তুরষ্কের সাথে একীভূত হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের অনুরোধে ১২০ ঘন্টার সিস-ফায়ারে এগ্রিমেন্ট করেছিল তুরষ্ক; সেই সময় একদমই শেষ পর্যায়ে। এমতাবস্থায় অপারেশন কন্টিনিউ করার জন্য একটি স্ট্রং ব্যাকাপ প্রয়োজন ছিল তুরষ্কের। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তুর্কিশ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগান রাশিয়ার সুচিতে রাশান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মিটিং করেন। সেখান থেকে বেশকিছু দারুন এগ্রিমেন্ট সাইন হয় রাশিয়া-তুরষ্কের ভেতর। যার একটি তুরষ্কের সেফ জোন প্রতিষ্ঠায় ও সন্ত্রাস নির্মূলে একসাথে কাজ করা

উক্ত এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে তুরষ্ক দুই পরশক্তিরই পজেটিভ রেসপন্স পেতে সক্ষম হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কথা দিয়েও ঠিকমত কথা রাখতে পারেনি, এবার দেখা যাক রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কতটা জোড়ালো ব্যাবস্থা নিতে পারে তুরষ্ক।

যেখানে ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা আর্মস এক্সপোর্টে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দায় ঠেকে সিস-ফায়ার এগ্রিমেন্ট করিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই খেলায় রাশিয়ার এন্ট্রি নেওয়া অবশ্যই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

এখানে জেনে রাখা ভালো তুরস্কের এই অভিযানের এরিয়া অত্যন্ত সীমিত, আর এই এলাকা ছাড়াওএসডিএফ এর কন্ট্রোলে আছে সিরিয়ার আরও ৩টি প্রভিন্স, যা নিয়ে তুরস্কের মাথাব্যাথা নেই। তুরস্কের ফোকাস তাদের সীমান্ত এলাকা।

বাংলা ক্যালেন্ডার